রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মাঠে মাঠে ব্যাপক ফলন হওয়া গম ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমণে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। নানা পদ্ধতি অবলম্বন করেও দমন হচ্ছে না ওইসব গম ক্ষেতের ইঁদুর। এতে করে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গোয়ালন্দের গম চাষিরা।

জানা যায়, বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ লোকের প্রধান খাদ্য গম। দানাদার খাদ্য হিসেবে গম বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ইঁদুরের আক্রমণে গম ফসলে বছরে প্রায় শতকরা ৪ থেকে ১২ ভাগ ক্ষতি সাধিত হয়।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা, উজানচর, দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গমের বাম্পার ফলনের চিত্র দেখা যায়। তবে পরিদর্শনকালে প্রায় প্রত্যেক মাঠের গম ক্ষেতেই ইঁদুরের আক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। তবে যেসব জমিতে বর্ষার পানি পায় না ওইসব জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ বেশি দেখা যায়। সে তুলনায় বেড়িবাঁধ বেষ্টিত এলাকার মাঠগুলোতে ইঁদুরের আক্রমণ বেশি। ছোটভাকলা ইউনিয়নের নলডুবি, চরবালিয়াকান্দি, হাউলি কেউটিল, দৌলতদিয়ার শাহাদত মেম্বর পাড়া, চর করনেশন, দেবগ্রামের তেনাপচা, উত্তর চর পাঁচুরিয়া, অন্তার মোড়, উজানচরের মঙ্গলপুর, হারেজ মিয়ার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে গমের জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা যায়। প্রায় প্রত্যেক গমের জমির বিভিন্ন স্থানে ইঁদুরে অনেকটা জায়গা জুড়ে গর্ত করে গমের গাছসহ শীষ কেটে গর্তে ঢুকিয়েছে।

এ সময় জমির মালিরা জানান, ‘গম বোনার কিছুদিন পর গমের গাছ একটু বড় হলেই ইঁদুর প্রথমে ক্ষেতের আইলে গর্ত করে বাসা বানায়। এরপর ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গমের গাছগুলো কেটে গর্তে নিয়ে যায়। গম যত পরিপক্ক হতে থাকে ক্ষতির পরিমাণ ততোই বাড়তে থাকে। একটি ইঁদুর এক রাতে ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত কুশি কেটে নেয়।’

এ সময় ছোটভাকলা ইউনিয়নের চরবালিয়াকান্দী গ্রামের গম চাষি সাজ্জাদুল আমল সামচু, বাড়ই ডাঙ্গা গ্রামের রিপন বিশ্বাস, অসীম বিশ্বাস, অখিল বিশ্বাস, নলডুবি গ্রামের বাচ্ছু শেখ, আঃ রব, হাউলি কেউটিল গ্রামের মাইনদ্দিন সরদার, দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আঃ সালাম মোল্লা ও নুরাল শেখ কৃষক আবজাল শেখসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ইঁদুরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। প্রতিদিন গম ও অন্যান্য ফসল কেটে ইঁদুরে সাবার করছে। ফাঁদ পেতে বিষ প্রয়োগ করে কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না।’

গম ক্ষেত ইঁদুর আক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: খোকন উজ্জামান বলেন, ‘গম ক্ষেতে প্রাকৃতিকভাবে ইঁদুর আক্রমণ করে থাকে। তবে ইঁদুর দমনের ব্যবস্থা করতে হবে। ইঁদুরের গর্তের মুখ খুঁজে বের করে তাতে পানি ঢেলে, মরিচের ধোঁয়া, টায়ার পুড়িয়ে নানা কৌশলে ক্ষেত থেকে ইঁদুর তাড়াতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়া বিষ টোপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ যেমন বাশেঁর ফাঁদ, কাঠের লোহার ও মাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহার করে ইঁদুর দমনে সুফল মিলবে। বোর্ডে বা জমিতে ইঁদুরের খাবার রেখে চারদিকে গ্লু বা আঠা লাগিয়ে রাখলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে কোনো নির্দিষ্ট একক পদ্ধতি ইঁদুর দমনের জন্য যথেষ্ট নয়। ইঁদুর দমনের সফলতা নির্ভর করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন সময়োপযোগী পদ্ধতি ব্যবহার করা দরকার। তাই মাঠে সকল কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে সময়মতো ইঁদুর দমন পদ্ধতি ব্যবহার করে জমিতে ইঁদুর দমন করতে হবে।’