ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি মাদরাসার ক্রয় করা সম্পত্ত্বিতে মাটি ভরাটের কাজে বাধা দেয়ায় এলাকাবসীসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের খালবলা বাজার-সংলগ্ন দিঘলিয়া নামক স্থানে এ মাদরাসাটি স্থাপিত হয়।

জানা যায়, ২০০০ সালে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুরোধে দেশবরণ্য আলেম আল্লামা নূরউদ্দিন আহমাদ গহরপুরী র: ‘আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া’ নামে ওই মাদরাটি প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসাটিতে প্রচুরসংখ্যক ছাত্র লেখাপড়া করায় এর ভবনের সঙ্কট দেখা দেয়। মাদরাসা কমিটি ওই সঙ্কট নিরসনে ২০১৯ সনে ধরনী কান্ত পালের ছেলে হীরেন্দ্র চন্দ্র পালের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৬ দশমকি ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।
সম্প্রতি ক্রয় করা সম্পত্ত্বিতে মাটি ভরাট করা শুরু করে। এ সময় একই এলাকার পরলোকগত শচিন চন্দ্র পালের ছেলে রাখাল চন্দ্র পাল বাধা প্রদান করেন। এতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টিতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ভবন সঙ্কট থাকায় মাদরাটির শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

প্রতিবেশী মুন্তাজ আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। এটি দ্রুত সমাধানে আসা উচিত।

আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া মাদরাসার মুহতামিম হিফযুর রহমান সালমানী বলেন, প্রতিষ্ঠারর পর থেকে মাদরাসাটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রচুর-সংখ্যক ছাত্র শিক্ষা নিতে আসছে কিন্তু ভবন সঙ্কটে তা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রয় করা জায়গায় মাটি ভরাটের কাজটি শেষ হলে একটা ব্যবস্থা হতো। মাদরাসা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্ত্বি নিয়ে বিতর্ক না করে আমি এর দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছি।

আল-জামিয়াতুল কুরআনিয়া মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য মতিউর রহমান মতি বলেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ৬ দশমকি ৩৩ শতক জমি ক্রয় করেছে। এতে মাটি ভরাট করে ভবন করলে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলত। মাটি ভরাটে বাধা দেয়ায় কাজটি আটকে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম।

এ বিষয়ে কাজে বাধা দানকারী রাখাল চন্দ্র পাল জানান, একইস্থানে তাদেরও পৈতৃক সম্পত্তির অংশ থাকায় এবং জায়গাটি চিহ্নত না করে মাটিভরাটের কাজ করায় বাধা দিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মাটিভরাটের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছেন।