কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছুরিকাঘাতে মো: মুছা আলী (৪০) নামের একজন ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর বাস স্টেশনের উত্তর পাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মুছা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার উত্তর নাজিরপাড়া গ্রামের মরহুম মাজেদ আলীর ছেলে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জুতা ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
মুছার স্ত্রী নাজিয়া আক্তারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় পরিচিত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হন মুছা আলী। পরে রাত ৯টায় নাজিয়া আক্তারের মোবাইল ফোনে তার স্বামীর নম্বর থেকে কল দিয়ে জানানো হয়, তাকে (মুছা আলী) অপহরণ করা হয়েছে। টাকা দিলে ১০ মিনিট পর ছেড়ে দেয়া হবে। পরে অপহরণকারীদের দেয়া একটি বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েকজন যুবক এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়, এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুছার স্ত্রী রাজিয়া আক্তার বলেন, ‘তার স্বামী ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের দোকানে বিক্রি করতেন। বুধবার রাতে সোহেল নামের একজন পরিচিত ব্যক্তির কল পেয়ে বাসা থেকে বের হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা তার স্বামীকে আটক করেছিল তারা প্রথমে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিল, পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর পরও কেন তার স্বামীকে হত্যা করা হলো।’
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া বলেন, ‘তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহৃ দেখা গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গত রোববারও কুমিল্লার আদালতে একটি মাদক মামলার হাজিরা ছিল।
ওসি আরো বলেন, ‘ঘটনায় জড়িতরা মুছার পূর্ব পরিচিত ছিল, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক কিংবা আর্থিক বিরোধ থাকতে পারে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’



