যশোরের চৌগাছায় ফল-সবজির মিশ্র চাষে সফল হয়েছেন চাষি হাবিবুর রহমান। মাল্টা বাগানের ফাঁকা জায়গায় বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকার কাঁচামরিচ বিক্রি ছাড়াও অন্যান্য সবজি বিক্রি হয়েছে লাখ টাকার। এ ছাড়া দুই লক্ষাধিক টাকার আলু বিক্রি হবে বলে আশাবাদী তিনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার বাকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন। তার বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপণকৃত মাল্টা গাছের দুই সারির মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় আলুর আবাদ। এর সঙ্গে লাউ, পেঁয়াজ, রসুন, পেঁপে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, লাল শাক, পালং শাক ও শিমসহ হরেক রকমের সাথী ফসল। চারপাশের বেড়ায় মেটে আলুর চাষ।
জানতে চাইলে হাবিবুর জানান, প্রথমে তিনি নার্সারি ব্যবসায়ী ছিলেন। এতে অভাব পিছু ছাড়ছিল না, অভাব ছিল নিত্য সাথী। পাঁচ বছর আগে চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা বাগান করেন। এতেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। বর্তমানে বাগানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ বিঘায়। এ বছর ৯ বিঘা জমির মাল্টা প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া দুই বিঘা জমিতে রয়েছে বিভিন্ন গাছের চারার নার্সারি। পেয়ারা চার বিঘা, ড্রাগন তিন বিঘা, বাগানের ফাঁকা জায়গা ফেলে না রেখে ফল-সবজির মিশ্র চাষে লাভবান হন।

তিনি জানান, ১৫ বিঘা জমির লিজ মূল্যের দুই লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ করেছি। বাগান পরিচর্যার কাজ করেন প্রতি দিন সাত থেকে আটজন। বছরে তাদের বেতন দিতে হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করে সফল হই। বাগানের বেশির ভাগ সবজি বিক্রি করা শেষ হয়েছে। বাকি আছে গোল আলু।
তিনি আরো বলেন, আমার বাগানে যে সবজি উৎপাদন হয়েছে তার মধ্যে কাঁচামরিচে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছি। কাঁচা ঝাল বিক্রি করেছি এক লাখের বেশি টাকার। অন্যান্য সবজি থেকে এসেছে আরো লাখ খানেক টাকা। সব ঠিক থাকলে আলু থেকে আরো দুই লক্ষাধিক টাকা আসবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া অন্যান্য সবজি তো রয়েছেই। বাগানের সাথী ফসল থেকে যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়েছে; তাতে পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা আয় হবে। এতে বাগান পরিচর্যা ও জমির লিজের খরচ উঠে আসবে। ফল থেকে যে পরিমাণ টাকা আসবে তার পুরোটাই লাভ।
এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে ফলবাগান ও সবজির চাষ করলেও উপজেলা কৃষি অফিসের কেউ কখোনো খোঁজ খবর নেননি। সরকারি কোনো প্রণোদনা সুবিধাও পাইনি। এসব সুযোগ সুবিধা পেলে আরো এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন বলেন, ফলবাগানে সাথী ফসল উৎপাদনের বিষয়টি একটি ভালো খবর। কিন্তু আমাকে কেউ এটি জানায়নি। এখন জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখবো। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।