ঢাকা-মহাসড়কে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা রেলগেট জমিদার ব্রিজ হতে মোকবুলের দোকান এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সারে ১২টায় মকবুলের দোকান এলাকায় বিবাহের পিঁড়িতে বসার আগের রাতে হোন্ডা আরোহী দুই সহোদর ভাই সড়কে মাটিবাহি ট্রাকচাপায় নিহত হয়। একই সড়কে শুক্রবার জমিদার ব্রিজের একইস্থানে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি দুর্ঘটনায় বাইসাইকেল ও হোন্ডা আরোহী দু’জন মারা যায়।

শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে গোয়ালন্দ বাজার থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দর্জি ব্যবসায়ী আকবর মল্লিক (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে জমিদার ব্রিজে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর বিকাল সারে ৫টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা রেলগেট এলাকার আজাদ মন্ডলের ছেলে রনি মন্ডল (৩০) তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে (২৭) নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এম এম পরিবহনের একটি বাসের চাপায় রনি মন্ডল নিহত হয় এবং তার স্ত্রী শিল্পী বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ছাড়া উপজেলা রেলগেটে শুক্রবার ভোরের দিকে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে আটকে থাকে। অল্পের জন্য নিচে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। এতে কোনো হতাহত হয়নি। বিকেল ৩টার দিকে জমিদার ব্রিজ এলাকায় দ্রুত গতির একটি পরিবহন বাস একটি ভ্যান রিকশাকে ধাক্কা দিলে ভ্যানচালক রফিক ও ওই ভ্যানে থাকা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মহাদেবপুর এলাকার কাসেম আলী (৬৫) তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৪১) এবং মোছা: মোহনা (১৪) নামের তিনজন গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তাদেরকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সবগুলো দুর্ঘটনাই বাস-ট্রাকের চালকরা খামখেয়ালী করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানই এসব দুর্ঘটনার কারণ।

এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে জমিদার ব্রিজের দুই পাশে স্পিডব্রেকারের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গাছের খণ্ড ফেলে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।