কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মৃত্যুর আগেই কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গায় বসবাস শুরু করছেন মোহাম্মদ আলী নামের এক বৃদ্ধ। বিষয়টি এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ১১ ফুট দৈর্ঘ্য ও আট ফুট প্রস্থের একটি নতুন পাকা ঘরে বসে আছেন মোহাম্মদ আলী।

তিনি উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রামের মরহিুম আসমাঈল শেখের ছেলে। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তার পাঁচ ছেলে ও ছয় মেয়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর আগে গাজীপুর জেলার চানপুরের মো: আব্দুস সামাদ চানপুরীর কাছে বাইয়াত নিয়েছিলেন বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী। ওই পীরের আদেশেই তিনি মৃত্যুর আগে কবরস্থানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করছেন বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, ওই ঘরে লাগানো রয়েছে কয়েকটি রঙিন বাতি। দ্বিতীয় স্ত্রী জীবিত থাকলেও তাকে ছেড়ে গত চারদিন ধরে এ ঘরেই বসবাস শুরু করছেন তিনি। তাই তাকে এক নজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর পরে যেন তাকে এ ঘরেই দাফন করা হয়।

এ সময় মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ মোছা: আঁখি বেগম জানান, আগে তার বৃদ্ধ শ্বশুর পরিবারের সদস্যদের সাথে বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে কবরের ওপর তৈরি ঘরে বসবাস শুরু করছেন।

তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা: রাশিদা বেগম (৬২) জানান, তার স্বামী দুই বছর ধরে এই ঘরটি তৈরি করছেন। নিজের ঘর ছেড়ে গত চারদিন ধরে কবরের ঘরে কেন বসবাস করছেন তা তিনি চিন্তা করতে পারছেন না।

বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী জানান, তার পীরের অসিয়ত ছিল বিধায় তিনি ওই কবরের ঘরটি নির্মাণ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। মৃত্যুর পরে তাকে ওই ঘরেই দাফন করারও জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।