পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি রেকর্ডভুক্ত খালটি এখন দখল-ভরাট আর ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে খনন ও পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এ খালের পাশেই উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পিরতলা বন্দর, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, সৃজনী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের খালটি আবর্জনায় ভরা। কোথাও পানি জমে আছে, কোথাও ময়লার স্তূপ সৃষ্টি হয়েছে আবার কোথাও কচুরিপানায় ভরে আছে। এ ছাড়া খালের পাড়ে অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে মাটি ভরাটের ফলে খালের পানি প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটির পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন করা হয়। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার কয়েক দিন পরেই রহস্যজনকভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়।
পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা জানান, খালের দুর্গন্ধের কারণে তাদের যাতায়াতে সমস্যা হয়। সুস্থ পরিবেশের কথা চিন্তা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা। সৃজনী বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আবদুল কুদ্দুস জানান, বর্ষা মৌসুমে ময়লার দুর্গন্ধে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর ক্লাস রুমে ঢোকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে টিকতে পারে না।
শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী মৃধা জানান, আগাগোড়ায় সুইসগেটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ক্রমে ক্রমে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি অবৈধ দখলদাররাও যে যেমন পারছে ভরাট করে দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়াতন বৃদ্ধি করায় খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এ অবস্থার মধ্যে অসচেতন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষজন খালে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। সব কিছুই আমার অজানা। দ্রুত সময়ের মধ্যে খোঁজখবর নেবার চেষ্টা করছি। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।