লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা মডেল মসজিদের চারটি গম্বুজে ফাটল ধরেছে। এ ছাড়া, নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রি ব্যবহার করার কারণে মসজিদের বিভিন্ন স্থানের ইটসুরকি উঠে যাচ্ছে, দরজা জানালা ভেঙে যাচ্ছে এবং ওয়ালের পলেস্তরা উঠে যাচ্ছে। মসজিদটি নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে মসজিদ নির্মাণের সময়ও স্থানীয় নানা অভিযোগ তুলেছিল। এ নিয়ে বর্তমানে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ স্থানীয় মুসল্লিদের মনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ফুটে উঠেছে।
ওই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরো যেসব অভিযোগ উঠেছে তা হলো- টয়লেটের ফ্লাশ ও দরজায় কবজা নিম্নমানের হওয়ায় এখই সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে অথবা কোনো কোনোটি ভেঙে গেছে। দেয়ালে লাগানো বিদ্যুতের সুইজ বোর্ড দিয়ে বৃষ্টির পানি চুয়ে পড়ে। মসজিদের দ্বিতীয় তলা এবং ছাদে পিভিসি পাইপ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁয়ে পড়ায় নিচে স্টোর রুমের ফ্লোরে পানি জমে থাকে। দ্বিতীয় তলায় মুসল্লিদের নামাজের স্থানে পাশের কাঁচের জানালার সামনে রেলিং দেয়া হয়নি।
জানা গেছে, ৪৮ শতাংশ জমির ওপরে পাটগ্রাম পৌর শহরের মির্জারকোটে লালমনিরহাট বুড়িমারী সড়কের পাশে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসজিদ উদ্বোধন করেন। ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত চালু করা হয়।
ইঞ্জিনিয়ার বিল্ডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাবু বলেন, আমি দেশের বাড়িতে এসেছি। তবে মসজিদের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেই মসজিদে গিয়ে দেখে এসেছি। মসজিদ এখনো আমরা বুঝে নেইনি। লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী (এসও) প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন অনুমোদন দিয়েছে আর আমরা বাস্তবায়ন করছি। গম্বুজের ফাটলটি প্লাস্টারের ফাটল। এটা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। তবে পানি চুয়ে আসাসহ অন্যান্য যেসব সমস্যা আছে তা ঠিক করে দেয়া হবে।