ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গীতে রসুনের বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি। এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ করা হয়েছে। চাষিরা আশা করছেন, রসুন চাষে তারা লাভবান হবেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার ধনতোলা, নাগেস্বড়বাড়ী, খোঁচাবাড়ী, দোলুয়া, চাড়োল, চাড়োল পতিলাভাষা, পাড়িয়া, তিলকড়া, নিটলডোবা, বঙ্গোভিটা, কান্তিভিটা, ভান্ডারদহ, মরিচপাড়া, সুভানপাড়া, আমজানখোর, চড়ুইগত, রত্নাই স্কুলের হাট, মেরদাবস্তী, উদয়পুর, বেউরঝাড়ী, বড়পলাশবাড়ী, সরকারবস্তী, বাদামবাড়ী, বালিয়া, বেলসাড়া, বোবড়া, পারুয়া, কিশমতপলাশবাড়ী, গড়িয়ালী, দুওসুও, মহিষমারী, গান্ধীকারী, লালাপুর জঙ্গলবাড়ী, ভানোর দীঘিপাড়া, বাঙ্গটলী, নেংটিহাড়া, বোয়াধার, হলদিবাড়ী, বিশ্বামপুর, বড়বাড়ী, কাশিডাঙ্গা, রুপগঞ্জ, গ্রামের মাঠ ঘুরে চাষিদের রসুন চাষ নিয়ে ব্যস্ততা দেখা যায়।

উপজেলার নাগেস্বড়বাড়ী গ্রামের রসুন চাষি তরুণী শীল বলেন, ‘নভেম্বরে একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। জামাতাকে মোটরসাইকেল দেবার ইচ্ছায় এ বছর দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। আগামী মার্চ মাসে রসুন তুলে লাভের টাকায় জামাতাকে লাখ দেড়েক টাকায় একটি মোটরসাইকেল কিনে দেবো। বাকি টাকা দিয়ে দুই কুঠরির ঘরের টিনের চালা দেবো।

তিনি জানান, দুই বিঘা রসুন চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, চার লাখ টাকার মতো বেচা-কেনা হবে। তরুণী শীলের মতো উপজেলার রসুন চাষিরা কেউ স্বপ্ন বুনছেন রসুন বিক্রি করে ঘর মেরামত, ধার-দেনা পরিশোধ করবেন, কিনবেন বাড়ির আসবাবপত্র, কেউবা নতুন টেলিভিশন কিনবেন ইত্যাদি। ভেষজ গুণে গুণান্বিত, মসলা জাতীয় সর্বোপরি অর্থকরি ফসল হিসেবে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে রসুন চাষ বেড়েছে। বিগত কয়েক বছর রসুনের দাম কম থাকায় উপজেলায় রসুনের চাষ কমে গিয়েছিল। গত বছর থেকে রসুনের দাম বাড়ায় উপজেলার চাষিরা আবারো রসুন চাষে ঝুঁকছে। চলতি বছর এ অঞ্চলের কৃষকেরা রসুন চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখছেন।’

এ সময় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ মণ রসুন ফলন হবে বলে আশা করছেন। গড়ে প্রতি মণ রসুন আড়াই থেকে ৩০০০ টাকা করে হলেও বিঘায় দুই লাখ টাকারও বেশি বেচা-কেনা হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসেবে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলে সেই অনুযায়ী আশানুরুপ জমিতে রসুন চাষবাদ হয়েছে। গত বছর প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়।’

কৃষি বিভাগ আশা করছেন, প্রকৃতি অনুকূলে থাকা, সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ভালো ফলনের মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘চাহিদা এবং ভালো দাম থাকায় এবার রসুন চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও রসুন চাষিদের উৎসাহিত করতে উন্নত জাতের বারি রসুন-১ ও বারি রসুন-৩ চাষে সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাই এবার রসুনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।

তিনি আরো বলেন, অর্থকরি ফসল হিসেবে রসুন চাষের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ চলমান। রাষ্ট্রীয় খরচে প্রদর্শনী প্লট করে চাষিদের রসুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

ভেষজ চিকিৎসকদের মতে, রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রসুন ব্যবহারে অজীণর্তা, পেটফাঁপা, হৃদরোগ, অর্শ, ক্রিমি, সর্দি, কাশি, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।