ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকার নির্ধারিত বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত রিদিশা স্পিনিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানার শ্রমিকরা প্রায় চারঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ শিল্প ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিক, শিল্প ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় অবস্থিত রিদিশা স্পিনিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানাটিতে দুই শিফটে এক হাজার ৬০০ নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন। তবে সরকার নির্ধারিত বেতন কোনো শ্রমিককেই দেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারা কয়েক দফায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করে আসছেন। কিন্তু তাদের দাবির বিষয়টি আমলে না নেয়ায় বেশ কয়েক দিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। শনিবার সকালে এরই পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা কারখানার ভেতর বিক্ষোভ করেন। পরে তারা মূলফটকের বাইরে আসেন এবং একপর্যায়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
শ্রমিকরা জানান, রিদিশা কারখানার স্পিনিং অ্যান্ড ডায়িং সেকশনে তারা এক হাজার ৬০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ শুধু সরকার নির্ধারিত বেতন দিতেই গরিমশি করছেন না, বরং সব সময়ই বৈষম্যমূলকভাবে একেকজনকে একেক ধরনের বেতন দিয়ে আসছেন। তা ছাড়া তাদের দুই বছরের ছুটির টাকাও বকেয়া রয়েছে। এমনকি অসুস্থতাজনিত কারণে বা বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ছুটি দেয়া হয় না। এসব বিষয়ে বারবার দাবি করা সত্ত্বেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো প্রদক্ষেপ না নেয়ায় তারা মহাসড়কে নামেন এবং প্রায় চারঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়কে অবস্থানের সময় অতর্কিতভাবে পুলিশের ধাওয়া ও কারখানার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর লাঠিপেটানোর কারণে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে মিল গেটে এসে অবস্থান নেন। অবরোধের কারণে মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক জানান, সরকার নির্ধারিত বেতনের বিষয়টি গার্মেন্টের জন্য গেজেট প্রকাশ হয়েছে। টেক্সটাইল বা স্পিনিং মিলের বিষয়ে এখনো গ্যাজেট প্রকাশ হয়নি। প্রকাশ হলেই তারা তা বাস্তবায়ন করবেন।
শিল্প পুলিশ-৫ ময়মনসিংহ জোনের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে, তারা সরকারের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের ঘোষণার পরও বেতন বৃদ্ধি করা না হলে পরবর্তীতে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিবেন।