চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি সালিসি বৈঠকে বাগবিতণ্ডার জেরে নিজ সংগঠনের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

মামুনুর রশিদ উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হরিণা পাঠার পাড়ার আবুল হাশেমের ছেলে।

এ ঘটনায় রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামুনের বাবা লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন। এতে মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানবীর আহমদ ফাহিম, মোহাম্মদ রাকিব, মোহাম্মদ আকিব, মোহাম্মদ রানার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের চাম্বি লেক থেকে আসার পথে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুগলকে আসামিরা ধাওয়া করেন। এ সময় স্থানীয়রা ওই যুগলকে আসামিদের কবল থেকে রক্ষা করেন। পরে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) উক্ত ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে আসামিদের এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে মামুনুর রশিদের সাথে আসামিদের বাগবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার সময় উপজেলা সদরের টার্ফ স্পোর্টস অ্যারেনার সামনে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মামুনুর রশিদের ওপর হামলা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুনের মাথা ফেটে যায় এবং পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে (মামুন) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে মামুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান রিয়াদ জানান, ‘সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত মামুন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।’

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। এটা দেখে আসামিদের শনাক্ত করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অভিযুক্তদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছি।’