বরিশালের মধ্য কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিন্তু এ মামলাকে অগ্রাহ্য করে অভিযুক্তরা যথারীতি বহাল তবিয়তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, অবিভাবকদের অভিযোগের কারণে বরিশাল সদর উপজেলার মধ্য কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিরুদ্ধে বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান টানা ১৪ বছর একই স্কুলে কর্মরত আছেন। ২০১০ সালে তিনি ওই স্কুলে যোগদানের পর থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। অবশেষে বাধ্য হয়ে অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিকার চেয়ে তাকে বদলির আবেদন জানান। একই সাথে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিরূদ্ধেও অভিযোগ জানান তারা।
অভিভাবকরা জানান, বিগত ৮-১০ বছর ধরে এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি ছিলেন রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহিরুল ইসলাম (মিরণ)। সরকারি প্রাইমারি স্কুল পরিচালনার নিয়ম অনুযায়ী একই ব্যক্তি পরপর দুই বারের বেশি সভাপতি থাকতে পারেন না। এ কারণে, ২০২৩ সালের কমিটিতে শ্রাবণী আক্তার নামে একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু শ্রাবণী আক্তার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরও তাকে ব্যাংক হিসেবের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ব্যাংক হিসেবের যাবতীয় লেনদেন করেন প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান এবং সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম। এতে বর্তমান সভাপতি অস্বস্তিবোধ করায় তিনি সভাপতির পদ থেকে ইস্তোফা দেন।
প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানান, আমি বরিশাল সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি চক্র প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতারা ষড়যন্ত্র করছেন। সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম (মিরণ) বলেন, বর্তমান সভাপতি শ্রাবণী আক্তার অসুস্থ থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এতদিন এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে এ বিষয়ে আমার ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন করা হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।
বর্তমান সভাপতি শ্রাবণী আক্তার বলেন, আমি অসুস্থ নই। ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান আমাকে কাগজে-কলমে সভাপতি দেখিয়ে সব কাজ নিজেরাই করেন। আমি স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো সিগনেটরিতে নেই। এসব অনিয়মের প্রতিবাদেই আমি ইস্তফা দিয়েছি। এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে এখন বিভাগীয় মামলা চলছে। মামলা চলাকালীন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা বিভাগীয় মামলা করেছি। মামলার নিয়মানুযায়ী তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এখন তারা উত্তর দেবেন। তাদের উত্তরের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশালে সরকারি স্কুলে দুর্নীতির মামলা হলেও চলছে টালবাহানা
বরিশালের মধ্য কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিন্তু এ মামলাকে...



