পর্যটননগরী কক্সবাজারে ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। গত শুক্রবার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কক্সবাজার। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনায় যারা এত দিন আতঙ্কে ছিলেন তারাও একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সব কিছু ভুলে পরিবার ও আপনজনদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন কক্সবাজারে। শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ উপভোগ করতে প্রশাসন কর্তৃক প্রচার চালানো হলেও পর্যটকেরা তা মানার ক্ষেত্রে ছিলেন উদাসীন। গতকাল সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজারের দর্শনীয় স্পটগুলো।
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী হুমাইরা আক্তার বলেন, বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রে নেমেছি আনন্দ উপভোগ করতে। মোহাম্মদ ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, আমরা গত বছরও কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলাম। এবার দুদিন আগে থেকেই কক্সবাজারে এসেছি।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। প্রিয় মানুষকে সাধ্যমতো উপহার কিনে দিতে ভিড় দেখা গেছে রাখাইন বার্মিজ মার্কেটগুলোতে। তাছাড়া সমুদ্রের ঝিনুক মার্কেটেও উপছে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ফুলের দোকানেও ছিল লম্বা লাইন। কেউ আবার মোবাইলে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলে দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখছেন। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভোর থেকেই আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে উম্মে আইমন ও রাসেল বলেন, আমরা গভীর রাত পর্যন্ত আজ আড্ডা দিব। কক্সবাজার সমুদ্রে রাত যত গভীর হয় তত আড্ডা ভালো জমে। এখানকার পরিবেশ খুব সুন্দর। গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত সমুদ্রে আড্ডা হয়েছে। এখানে যে যার মতো করে ঘুরে বেড়ায়। ঢাকা থেকে আসা সোহেল দম্পতি বলেন, এখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এসেছি। চার বছর আগে একবার এসেছিলাম। এখানে অনেক দর্শনীয় স্পটের মধ্যে মিনি বান্দরবান খ্যাত উখিয়ার রেজু খালের পাশে গোয়ালিয়া, উখিয়ার পাথুরে গাঁথা ইনানী সমুদ্রসৈকত ও হিমছড়িতে গিয়ে ভালো লেগেছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার হোটেল মোটেল আগে থেকেই বুকিং হয়ে আছে। কক্সবাজার সর্বত্রই ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর নজরদারি রয়েছে।



