নরসিংদীর শিবপুরে ভুল চিকিৎসায় এক নারীর মৃত্যু অভিযোগের ঘটনায় শিবপুর পপুলার প্রাইভেট হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শেযে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এ হাসপাতাল সিলগালা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা আহমেদ, শিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান রাসেল, শিবপুর হাসপাতালের আরএমও শাহনুর ইসলাম ডলার, শিবপুর মডেল থানার এসআই কাইয়ুম।

উল্লেখ্য ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের বাজনাব গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী মার্জিনা পারভিন রিনির (৩৭) মাথাব্যাথার কারণে শিবপুর পপুলার প্রাইভেট হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগে নেয়ার পর রিনির প্রেশার মাপা হয়। ওই সময় তার প্রেসার কম ছিল। তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিনিকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এরপরই রিনির শরীর আরো খারাপ হয়। দ্রুত রিনিকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রিনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পপুলার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রিনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালের ভেতর ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও ১৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে শিবপুর পপুলার হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। এ সময় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

শিবপুর পপুলার হাসপাতালের ম্যানেজার আশরাফ হোসেন হাসপাতাল সিলগালা বিষয়ে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের মালিক সালাহউদ্দিন ও রতনকে মোবাইলফোনে পাওয়া যায়নি।

শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও নরসিংদী জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফারহানা আহমেদ জানান, শিবপুর পপুলার হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় আজ হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে। হাসপাতালে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাইনি। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।