লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ঢাকা বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে চলছে বালু ক্রয়-বিক্রয়ের জমজমাট ব্যবসা। ফলে সড়কের ফুটপাতজুড়ে অনিয়ন্ত্রিত এ ব্যবসার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১০ বছরে এ সড়কে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ও দুই শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘুণ্টিবাজার এলাকায় পাথরবাহী লরির পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে আমিনুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি মহাসড়কের সাথে বালু রাখায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ছয় চাকাসহ ভারী ট্রাকে পাথর ও অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। এ ছাড়াও বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রায় ৩৫-৪০টি নাইটকোচ, বাস, মিনিবাসসহ শত শত যানবাহন চলাচল করছে। আর এ মহাসড়কের কিছু অংশ দখলে নিয়ে হাজার হাজার টন বালুর স্তূপ করে রেখে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। এসব বালু অপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ধরলা নদী ও তার শাখা নদী থেকে উত্তোলন করে ট্রাক্টরের মাধ্যমে লোড করে সড়কের পাশে রাখা হচ্ছে। পরে সড়কের ওপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বালু বোঝাই করায় মহাসড়কের অর্ধেকটাই দখল হয়ে থাকে। এতে অনেক সময় পণ্যবাহী ভারী গাড়ি এবং নাইটকোচগুলো সাইড নিতে ও দিতে না পারায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশা যাত্রীবাহী ছোট ছোট গাড়ি চলাচল করছে। এত সবের পরও প্রশাসন নীরব।
বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পাথর নিয়ে ঢাকাগামী ট্রাকের চালক কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মিনারুল ইসলাম (৩৫) বলেন, এক লেনের মহাসড়কের কিছু অংশ জুড়ে এভাবে বালু স্তূপ করে রাখায় ভারী যানবাহন চলাচলে ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও।
এ ব্যাপারে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে বালু সরিয়ে নিতে বলেছি। যারা সরাবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদী থেকে বালু তোলার ক্ষেত্রে আমরা বাধা দিতে পারি না। তবে তা আমাকে জানালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।