ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীর পর আবার যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রী। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: মাকসুদুর রহমান বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছি, সেখানে অধ্যাপক নাদির জুনাইদ একটি কোর্স পড়াতে গেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে আমাদের বিভাগে এসেছিলেন। আমি ক্লাসের সিআর হওয়ার সুবাদে আমাকে তার সাথে এক ধরনের যোগাযোগ রাখতে হতো। প্রথমত. তিনি নিয়মিত আমাকে ফোন করতেন। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি ব্যক্তিগত অনেক তথ্য জিজ্ঞেস করতেন। আমাকে এমনো জিজ্ঞেস করেছেন, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কি না।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল, তার পড়াশোনার কাজের থেকে বেশি আগ্রহ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। এসব নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে চাইতেন। সাধারণত তিনি রাত ১০টা বা ১২টার দিকে ফোন দিতেন। তিনি আমাকে যখন এইভাবে ফোন বা ভিডিও কল দিতেন, আমি খুবই বিব্রত হতাম। আমি প্রায় ওনার ফোন না ধরার চেষ্টা করতাম, কিন্তু সেটার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পরবর্তী ক্লাসে দেখা যেত।
অনেকটা বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে ওনার ফোন ও ভিডিও কল রিসিভ করতাম। তখন ভিডিও কলে বলতেন, একটু তোমার চেহারাটা দেখি, তোমার চুলটা একটু দেখি, তোমার জুম পিক দেখি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের একজনের কাছ থেকে অধ্যাপক ড. নাদির জুনায়েদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এসেছে। এই সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মূলত ভিসি বরাবর দেয়া হয় এবং প্রক্টরের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়। আমি সেই অনুলিপিটা পেয়েছি।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইচ্ছেকৃত নম্বর কম দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী। সেই ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই ফের যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ করলেন এই শিক্ষার্থী।