পাবনার বেড়া উপজেলার চরকেষ্টপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারা গেছে ধর্ষিতার গর্ভের সন্তান। ছয় দিন আগে মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেতে পারেনি। স্থানীয়রা বলছেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ বলছে তারা পলাতক। এ দিকে নানা চাপে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নের চরকেষ্টপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- চরকেষ্টপুরের মাজেদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক (২৩), একই এলাকার মো: শরীফ (২৪), আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার (২১), তালেব মণ্ডলের ছেলে রুহুল মণ্ডল (২৬), শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার (২০) ও মো: শামসুলের ছেলে সিরাজুল (২৩)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে চরকেষ্টপুরের কাদেরিয়া তরিকাপন্থীদের একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলের ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। ওয়াজ শুনতে এবং টাকার প্রয়োজনে রাতে স্বামীর কাছে যান ওই নারী। ওয়াজ শুনে স্বামীসহ রাত ১২টার দিকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে পথরোধ করে অভিযুক্ত ছয় যুবক।
একপর্যায়ে স্বামীকে জিম্মি করে আটকে রাখে। পরে ওই নারীকে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে অভিযুক্তদের দু’জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে ছুটে স্থানীয় লোকজনকে বললে তারা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের একজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। বাকিরা পলিয়ে যায়। এ সময় ধর্ষিত নারীকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় লিটন মণ্ডল, রাজ্জাক মণ্ডল, নিফাস মণ্ডল ও শহিদ মণ্ডল বলেন, আমাদের ওয়াজ মাহফিল চলাবস্থায় রাত ১টার দিকে ওই ছেলে ছুটে এসে বলল- কিছু ছেলে তাকে মারধর করে স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে। এ কথা শোনার সাথে সাথেই স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে একজনকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয়। আর ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন কাদেরীর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল কাদেরী বলেন, স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে আমার কাছে নিয়ে এলে আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দেই। পরে তার স্বামী ভুক্তভোগীকে পাবনা জেলারেল হাসপাতালে বা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি।
এ দিকে অভিযুক্তরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাগরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরছে কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এ ঘটনা নিয়ে প্রশাসনে তেমন তোড়জোড় আছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা এরকম একটা ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।
তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেছেন আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ। গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশি গাফিলতির বিষয়টি মিথ্যা। আমরা চেষ্টা করছি গ্রেফতারের। ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা হয় না, বাদিকে হুমকি-ধমকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্বামীকে জিম্মি করে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, গর্ভের সন্তানের মৃত্যু
পাবনার বেড়া উপজেলার চরকেষ্টপুরে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মারা গেছে ধর্ষিতার গর্ভের সন্তান। ছয় দিন...



