ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা রেঞ্জের আঙ্গারগাড়া বিটের আওতায় বনভূমি দখলে নিয়ে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তা ছাড়া বিভিন্ন মৌজায় কিছু প্রভাবশালী ভেকু দিয়ে বনবিভাগের উঁচু টিলা ও চালা কেটে নিয়ে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। বনবিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তির সাথে যোগসাজশ করে এসব অনৈতিক কাজ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, আঙ্গারগাড়া বিট অফিসার মাজহারুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ওই বিটের আওতায় শুরু হয়েছে একের পর এক বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ। তা ছাড়া বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিট অফিসারের সাথে যোগসাজশ করে এমনকি অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ভেকু দিয়ে বনবিভাগের উঁচু টিলা ও চালা কেটে নিয়ে মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কোথাও কোথাও বনবিভাগের জমিতে মাটি কেটে পুকুর নির্মাণের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি সরেজমিন বিটের অদূরে আখালিয়ায় এক চালায় গিয়ে দেখা যায়, ভেকু দিয়ে বনবিভাগের উঁচু টিলা কেটে নেয়া হচ্ছে।
জমির মালিক আনিছ জানান, বিট অফিসার মাজহারুলের অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। এ সময় বিট অফিসারকে মোবাইলে ফোন ধরিয়ে দিলে তিনি অফিসে যেতে বলেন এবং মাটি কাটতে অনুমতি দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি আরো জানান, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার লোক মাটি কাটছে, তাই তিনি অনুমতি দিয়েছেন। এ দিকে আঙ্গারগাড়া মৌজার কালিরচালা চৌরাস্তার পশ্চিম পাশে হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তি বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে ছাদসহ ইটের বিশাল বাড়ি নির্মাণ করছেন। তা ছাড়া, চাঁনপুর মৌজার ৮৭ নম্বর দাগে দক্ষিণ চাঁনপুর বড়চালা নামক স্থানে নজরুল ইসলাম ও ফজল মিয়া বিশাল বাড়ি নির্মাণ করছেন।
এসব বাড়ি নির্মাণকারীরা জানান, বনবিভাগের আঙ্গারগাড়া বিট অফিসার ও সোহাগ নামে অফিসের এক লোকের সাথে কথা বলে ও কিছু টাকা দিয়েই তারা বাড়ি নির্মাণ করছেন। বিট অফিসের পশ্চিমে ভালুকা সখিপুর সড়কের উত্তর পাশে আলামিন ও শরিফ নামে দুই ব্যক্তি পুকুর খনন করে মাটি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, কাইলাজুড়ি মোড়ের উত্তর পাশে মোতালেব নামে এক পোলট্রি ব্যবসায়ী বিট অফিসে মালি সোহাগকে চার হাজার টাকা দিয়ে বেশ কিছু গজারি ও আকাশমনি গাছ কেটে মুরগির বিষ্টা রাখার বিশাল গর্ত তৈরি করেছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন মৌজায় একেরপর এক বনবিভাগের চালা কেটে নিয়ে মাটি বিক্রি করছে একটি চক্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, আঙ্গারগাড়া বিটের আওতায় অবাধেই নির্মাণ হচ্ছে একের পর এক পাকা-বাড়ি। অভিযোগ পেলে বনবিভাগের লোকজন দু’একটা বাড়ির সামান্য ভেঙে বা ইট খুলে লোক দেখানো অভিযানের ভিডিও করে তাদের ওপরমহলকে ওইসব ভিডিও দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া টাকা বৈধ করছেন। তা ছাড়া এই এলাকায় মাহিদুল, আলামিন, আনোয়ার মেম্বার, গোলাপ ড্রাইভার, শরিফ, দুলু, সফিক, সাইফুলসহ বেশ কয়েকজন ভেকু দিয়ে দিনরাত দাপটের সাথে বনবিভাগের উঁচু টিলা ও চালা থেকে মাটি কাটে নিয়ে বিক্রি করছেন। বিট অফিসার মাজহারুল ইসলাম ওই বিটে যোগদানের পর থেকে তার সাথে যোগসাজশ করে ও বনমালি সোহাগের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন মৌজায় একের পর এক পাকা বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে। এমনকি মাটির শ্রেণী পরিবর্তন. করে বনবিভাগের উঁচু টিলা ও চালা ভেকু দিয়ে কেটে নিয়ে মাটি বিক্রি করছে একটি সঙ্ঘবদ্ধ অসাধু মাটি ব্যবসায়ী। এতে বনভূমি বেহাতসহ প্রকৃতিক পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উথুরা রেঞ্জের আঙ্গারগাড়া বিট অফিসার মাজহারুল ইসলাম রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় কিছু লোক মাটি কাটার কাজ করছে বলে স্বীকার করে জানান, কেউ কেউ পুরাতন বাড়ি ভেঙে ইটের বাড়ি নির্মাণ করার কারণে তেমন কিছু করা যাচ্ছে না। তবে কোনো কোনো ঘটনায় মামলাও দেয়া হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
উথুরা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার রেদুয়ান আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিট অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাড়ি নির্মাণকারী ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। কালিরচালা চৌরাস্তার পশ্চিম পাশে হায়দার আলী, চাঁনপুর বড়চালা নামক স্থানে নজরুল ইসলাম ও ফজল মিয়ার বিরুদ্ধে স্থাপনা উচ্ছেদসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ভালুকায় বনভূমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা রেঞ্জের আঙ্গারগাড়া বিটের আওতায় বনভূমি দখলে নিয়ে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তা ছাড়া বিভিন্ন মৌজায় কিছু প্রভাবশালী...



