যশোরের চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে জেলা পরিষদের অসংখ্য মরাগাছ (শুকনা) এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সামান্য ঝড় বৃষ্টি ও একটু বাতাসে গাছের বড় বড় ডাল এমনকি মরাগাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাছগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কেউ।
গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, চৌগাছা-শার্শা সড়কের চৌগাছা সদর ইউনিয়নের দীঘলসিংগা গ্রামের নুর আলী মণ্ডলের বাড়ির সামনে একটি মরা-শুকনা গাছ সড়কের উপর হেলে রয়েছে। গাছটির মাঝে ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে। এই গাছের নিচ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। এলাকাবাসী বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হেলে পড়া মরা গাছটি অপসারণে বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেছেন। দিঘলসিংহা গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে। আমরা মরাগাছটি অপসারণের জন্য চৌগাছা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ দেখছি না।
এ দিকে চৌগাছা-যশোর, চৌগাছা-ঝিকরগাছা, চৌগাছা-মহেশপুর, চৌগাছা-কোটচাঁদপুর, চৌগাছা-শর্শা সড়কগুলোর দুই পাশে জেলা পরিষদের মেহগনী, শিশু, কড়াই, বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আম্ফান, নার্গিসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক গাছ পড়ে বা ভেঙে মারা গেছে। এ ছাড়া ফসলি জমির পাশে গাছ থাকায় এই সব গাছের ছায়া ও পাতায় নষ্ট হচ্ছে ফসল। তাই জমির মালিকরা নানা কৌশলে সড়কের পাশে থাকা গাছ মেরে ফেলছেন। বিশেষ করে চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালের সামনে বেশকিছু বড়-বড় মেহগনী, শিশু ও কড়াই গাছ মরে শুকিয়ে গেছে। যা এখন মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতে দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি আমি নিজে দেখেছি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসরণের জন্য কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সড়কের গাছগুলো যশোর জেলা পরিষদের। জেলা পরিষদকে বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।