খালের পানির ওপর ভরসা করে শত শত একর জমিতে বোরো ধান, তরমুজ, আলু, পাতাকপি ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন জাতের সবজি লাগানো হয়। খালের পানি প্রথম দিকে মিষ্টি থাকলেও, ইজারাদাররা নানান কৌশলে লোনা পানি উঠিয়ে নষ্ট করে কৃষকের ফসল। সেই সাথে ধ্বংস করে দেয় দরিদ্র কৃষকের স্বপ্ন।
কৃষকরা তাদের জমিতে আমন চাষের পর বোরো আবাদ করেন। তাদের জমির পাশে কাসেমখার ডোস বদ্ধখাল নামের খালটিতে মিষ্টি পানি থাকে। খালটি ইজারা দিলে ইজারাদাররা নোনাপানি উঠিয়ে মাছ চাষ করেন। যে কারণে ওই খালের আশপাশে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
শুধু ওই খালটি নয়; রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে এমন শতাধিক বদ্ধখাল মাছচাষিদের কাছে প্রতি তিন বছর পরপর ইজারা দেয়া হয়। ইজারার চুক্তি অনুযায়ী এসব খালে নোনাপানি উঠানো নিষেধ; কিন্তু ইজারাগ্রহীতারা গোপনে স্লুইস গেটের কপাট খুলে নোনাপানি উত্তোলন করেন। ফলে ওই সব খালের পানির ভরসায় যেসব কৃষক শুস্ক মৌসুমে বোরো আবাদের চেষ্টা করেন, তারা প্রতি বছর লোকসান গুনছেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় কৃষকরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে; আমি এ বিষয়টি মাসিক মিটিংয়ে উপস্থাপন করব, যাতে খালটি ইজারা না দেয়া হয়।
রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, খাল ইজারার বিষয়ে আলাদা কমিটি আছে, তারা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সেচের বিষয়টি উপজেলা জলমহাল কমিটির কাছে তুলে ধরব, যাতে কৃষকরা নির্বিঘেœ খালের পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে পারেন।
উপজেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও রাঙ্গাবালীর ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে রাজস্ব আয়ের স্বার্থে খাল ও জলাশয় ইজারা দেয়া হয়। এর নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, সেখানে কোনোভাবে নোনাপানি তোলা যাবে না। কেউ যদি গোপনে নোনাপানি তুলে কৃষকের ক্ষতি করে থাকে, তাহলে অভিযোগ পেলে তার ইজারা বাতিল করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।