লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে যেন মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। বেপরোয়া ট্রাক চলাচলে গত ১৭ দিনে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর ঘিরে প্রতিদিন ভারী পাথর ও বালুবোঝাই কমপক্ষে ৫০০ ট্রাক চলাচল করে। অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে এসব ট্রাক চলাচল করে। এক লেনের সড়ক হওয়ায় সড়কের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ বেড়েছে। বেপরোয়া গতির ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ১৫ টন পণ্যের অনুমোদন থাকলেও পাথরবোঝাই ট্রাকগুলো ৩০ টন পণ্য নিয়ে চলাচল করছে। ওভারলোড থাকায় ট্রাকের গতি থাকে নিয়ন্ত্রণহীন, পাশাপাশি অনুমোদনবিহীন অবৈধ যান।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বুড়িমারী থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আটজন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদিতমারী উপজেলার খাতাপাড়া এলাকায় পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ফরিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে পাটগ্রাম উপজেলার চৈতার বাজার এলাকায় শহিদার রহমান নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন। তার লাশ পরের দিন উদ্ধার করে পুলিশ। ১৯ ফেব্রুয়ারি পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা এলাকায় পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক আমিনুল রহমান পিষ্ট হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন সড়কে পাথরবোঝাই ট্রাকে পিষ্ট হয়ে মাদরাসার ছাত্র আব্দুল্লাহ নিহত হন। তার একদিন পরে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় ট্রলিচালক ফরিদুল নিহত হন। ২৯ ফেব্রুয়ারি কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় ট্রাক এবং অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মাস্টার্স পরীক্ষার্থী সোহেল রানা নিহত হন।