পুষ্টিকর মসলার মধ্যে ধনিয়া অন্যতম। ধনিয়া আমাদের তরকারি রান্নার একটি প্রধান অনুষঙ্গ। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন অধিক লাভজনক ফসল হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ধনিয়া।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের ভাষ্যমতে, হোসেনপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ধনিয়া চাষের জন্যে খুবই উপযোগী। ধনিয়ার কচিপাতা ও ফুল এখন চর এলাকার মানুষের অন্যতম অলঙ্কার। এ বছর চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধনিয়ার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এই মসলা ফুলের গন্ধ মাতোয়ারা করেছে চরের কৃষক, কৃষাণী ও ভ্রমণ পিপাসুদের। পাশাপাশি এই মসলা ফুল ও কচি পাতার ঘ্রাণে মুহিত করেছে প্রকৃতিকে।

সূত্র মতে, ধনিয়া মূলত শীতকালীন রবি ফসল হলেও বর্তমানে গ্রীষ্মকালসহ ১২ মাসই ধনিয়া চাষ করছেন হোসেনপুরের কৃষকরা। কম খরচে অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় চর এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে ধনিয়া চাষ করেছেন। এতে পোকার আক্রমণও কম। তাই কৃষকেরা অন্য ফসল বাদ দিয়ে ধনিয়া চাষে ঝুঁকছেন।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটি হারী গ্রামের কৃষক মো: দেলোয়ার হোসেন ও মুক্তার মৃধা জানান, ‘এ বছর তারা ২৫ শতক জমিতে ধনিয়া চাষ করেন। এতে তার ৩০০০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে ধনিয়ার কচি পাতাই বিক্রি করেছেন ১০ হাজার টাকা। ধনিয়া মাড়াই করে আরো ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা তাদের।

দেলোয়ার ও মুক্তা মৃধার মতো উপজেলার জগদল গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া, আ. সাত্তার, মালেক মিয়া, সাহেবের চর গ্রামের কৃষক মুকুলসহ অনেকেই জানান, ‘চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ধনিয়া একটি লাভজনক ফসল। অন্যান্য ফসলের সাথে উৎপাদন করা যায়। তাই এটা উৎপাদনে তেমন খরচ হয় না বলে অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষক।’

স্থানীয় পুষ্টিবিদ আশরাফ আহমেদ জানান, ‘ধনিয়া পাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও উপকারী খনিজ উপাদান। এছাড়াও রয়েছে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লোহা ও ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি।’

তিনি আরো বলেন, ‘শরীরের ত্বক সুস্থ ও সতেজ ও নির্মল রাখতে ধনে পাতার উপকারিতা অনেক বেশি। তাই যুগ যুগ ধরে মানুষ ধনিয়া পাতার সুফল ভোগ করে আসছেন।’

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসিল হায়দার জানান, ‘বাঙালির নানা ধরনের তরকারির স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে ধনিয়ার কচিপাতা ও গুড়ো মসলার ব্যবহার হয়ে থাকে। ধনেপাতার ভর্তা খুবই সুস্বাদু। এছাড়া যেকোনো ভর্তাতেও এর ব্যবহার করা যায়। তাই মসলা জাতীয় ধনিয়া অত্যন্ত উপকারী একটি ফসল। বর্তমানে ধনিয়া পাতা লাভজনক হওয়ায় ধনিয়া আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম শাহজাহান কবির জানান, ‘উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৫ হেক্টর জমিতে ধনিয়া আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও আবাদ হয়েছে অনেক বেশি। এছাড়া ধনিয়া সাথী ফসল হিসেবে লাভজনক একটি মসলা।

কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় ধনিয়া উৎপাদনে এ বছর চাষিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’