বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আলু চাষ করে চাষিদের চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আলু চাষে খরচ বেড়ে যাওয়া, প্রতিকূল আবহাওয়া, পচন রোগ আর ফলন কম পাওয়ায় দিশেহারা চাষিরা। গত বছর আলুর দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষিরা লাভের আশায় বেশি করে আলু চাষ করেছিল। ফলন কম হওয়ায় এবার লাভের পরিবর্তে লোকসানের হিসাব গুনছেন আলু চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শেরপুরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তিন হাজার হেক্টর, অর্জিত হয়েছে দুই হাজার ৭০০ হেক্টর। গড়ে প্রতি বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে ৬৯ শতাংশ।
সরেজমিন আয়রা, উচড়ং, কেল্লা, বনমরিচা ও বোডেরহাটের চাষিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, গত বছর আলু চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা এবার বেশি আলু চাষ করেছে। আবহাওয়া ও লেট ব্রাইট ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এবার ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত বছর এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১২০ থেকে ১২৫ মণ আলুর উৎপাদন হয়েছিল। এবার বিঘা প্রতি ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৮০ থেকে ৮৫ মণ ফলন হয়েছে। বর্তমানে চাষিরা প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছে ১৮ থেকে ২০ টাকা।
আলু চাষি মোসলেম জানান, ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। শুরুতে বৃষ্টি এবং লেট ব্রাইট ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াতে ঘন ঘন কিটনাশক দেয়ায় খরচ বেশি হয়েছে। তাছাড়া বীজ, সার, লেবার সব মিলে বিঘা প্রতি ৫৮ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে আলুর ফলন হয়েছে গড়ে ৬৫ মণ। এতে আমার বিঘাপ্রতি সাত হাজার টাকার মতো লোকসান গুনতে হচ্ছে।
কৃষক আইয়ুব আলী, মজনুসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, আমরা হাটে আলু বিক্রি না করে খরচ কমানোর জন্য বাড়িতে বসে বিক্রি করছি। কিন্তু বাড়ি বাড়ি এসে প্রথমে তিন হাজার টাকা খাজনা নিতো, এখন ১৫০০ টাকা করে খাজনা নেয়ায় ব্যাপারীরা আলু ক্রয় করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে। চাষিদের কাছ থেকে কম দামে আলু ক্রয় করছেন। কথায় আছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, এবার আলুর ফলন তুলনামূলক কম। আলু রোপণের পর বৃষ্টিতে ভেজেনি এমন জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে আলুর দাম ভালো হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি পুশিয়ে নিতে পারছেন বলে জানান তিনি।
চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ
বগুড়ার শেরপুরে আলু চাষে লোকসানের আশঙ্কা
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আলু চাষ করে চাষিদের চোখে মুখে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আলু চাষে খরচ বেড়ে যাওয়া, প্রতিকূল আবহাওয়া, পচন রোগ আর ফলন কম পাওয়ায়...



