ঋণের বোঝা ছাড়া আর কিছুই রইল না দেবিদ্বারের মালয়েশিয়া প্রবাসী নিহত দুই পরিবারের। এখন কি হবে, অভাব ঘুচাতে ধার-কর্জ করে পাড়ি জমিয়েছিল কামাল ও দুলাল।

অনেক স্বপ্ন ছিল তাদের মা-বাবা আর স্বজনদের চোখে। ঋণের বোঝা শেষ হলেই সংসারে ফিরবে সুদিন। একটুখানি সুখের দেখা মিলবে পরিবার দু’টিতে। অথচ সুদূর প্রবাসে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যুতে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে তাদের পরিবারে। বিশাল ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতই যেন নিশ্চিত পরিণতি শোকার্ত পরিবারটিতে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের উটখাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত কামাল ও দুলালের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে বাড়ির চারপাশ।

নিহত মো: দুলাল মিয়ার মা আনোয়ারা বেগম জানায়, গত এক বছরে তার স্বামীসহ আরো দুই সন্তান হারিয়েছেন তিনি। চার ভাই পাঁচ বোনের সংসারে দুলাল ছিল সবার ছোট সন্তান। ১৬ মাস আগে সংসারের হাল ধরতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায় সে। স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকে তার মায়ের কাছে। দুলালের মৃত্যুতে সে অথই সাগরে পড়েছে। কি দিয়ে পরিশোধ করবে ঋণ, তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তিনি। এই চিন্তায় শোকও করতে পারছেন না তিনি।
তারপরও নিহত সন্তানের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চান দুলালের মা। বারবার শুধু বলছেন আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও বাবা। আমার সন্তারেরা একের পর এক মারা যাচ্ছে আমাকে কে মাটি দিবে। এমন করেই আহাজারি করছেন তার মা।

এ দিকে দুলাল মিয়ার প্রতিবেশী ছিল কামাল। ১৪ মাস আগে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে মালয়েশিয়া যায়। বাবা-মার অতি আদরের ছোট সন্তান ছিল সে। বাবা-মা চার ভাইয়ের অভাবের সংসারে সে আনতে চেয়েছিল সুখ। মেধাবী কামাল টাকার জন্য করতে পারেনি লেখা-পড়া। রোববার রাত সোয়া বারটায় দুই প্রবাসীর লাশ উদ্ধার করে মালয়েশিয়ান পুলিশ।

তারা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে মো: কামাল হোসেন (২৫) ও একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো: দুলাল মিয়া (৩২)। এই দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, দুজনেই সম্প্রতি কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন। তারা একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।