যশোরের চৌগাছায় অপ্রতুলতা ও পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে বাঁশ শিল্প। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীর সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে এককালের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। অপর দিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অভাব-অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন বাঁশ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে তারা এ পেশাকে ছেড়ে অন্য পেশায় ঢুকে পড়ছেন। ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মটি এ এলাকা থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার খড়িঞ্চা দাসপাড়া, সলুয়া, বিশ্বনাথপুর, পুড়াপাড়া, সুখপুকুরিয়া ও গুয়াতলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিগত কয়েক দশক ধরে দুই শতাধিক পরিবার বাঁশ শিল্পের সাথে স¤পৃক্ত ছিল। এক সময় চৌগাছায় গৃহস্থ পর্যায়ে প্রচুর বাঁশ উৎপাদিত হতো। এ ছাড়া পাশের উপজেলা থেকেও প্রচুর বাঁশ আনা হতো। ওই বাঁশ দিয়ে চালুন, কুলা, টেপারি, ডালা, ঝুড়ি ধান-চাল ও ডাল সংরক্ষণের জন্য গোলা, ডোল, বাজার করার খাড়ই, মাটি কাটার ঝুড়ি, মাছ ধরার যন্ত্রপাতি, চাষাবাদের জন্য সৌখিন অনেক পণ্যসহ গৃহস্থালি কাজের অনেক জিনিস তৈরি করা হতো। এগুলো প্রত্যেক পরিবারের জন্যই ছিল অপরিহার্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে বাজারে প্লাস্টিকের হরেক রকমের পণ্য আসায় হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পটি। বর্তমানে উপজেলায় হাতে গোনা ১০০ থেকে ১১০টি পরিবার এ শিল্পের সাথে কোনো রকমে টিকে রয়েছে। জানা যায়, এ উপজেলায় পুরুষদের পাশাপাশি বাঁশ শিল্পের সাথে তিন শতাধিক নারী জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া পরিবারের মেয়ে সন্তানরাও এ কাজে সহায়তা করতেন।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, শিল্পটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ। আমরা চেষ্টা করব এদেরকে সার্বিক সহায়তা দিতে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
চৌগাছায় বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প
যশোরের চৌগাছায় অপ্রতুলতা ও পৃষ্ঠপোষকতা এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে বাঁশ শিল্প। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীর সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে না পেরে...



