গাজীপুরের কালীগঞ্জে দীর্ঘ ১১ বছর পর অবৈধভাবে গড়ে উঠা পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারদলীয় প্রভাবশালী মহল ও জনপ্রতিনিধিরা উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর এলাকায় অবৈধ এ পশুর হাটটি বসিয়ে বছরের পর বছর ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনার নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিজেদের পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টারের তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সালে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানো হয়। কিছু দিন পর স্কুল কর্তৃপক্ষের আপত্তিতে তাতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খগেন্দ্র দেবনাথের জমিতে সরিয়ে নেয় হাটটি। চুপাইর বালিকা বিদ্যালয়সংলগ্ন ৬২ শতাংশ জমিও নিজ নামে কেনা ছাড়াও পাশে থাকা সরকারি ৩০ শতাংশ খাস জমিও সংযুক্ত করেন হাটের পরিধি বাড়াতে। বর্তমানে ছয় বিঘা জমির উপর গরুর হাটটি প্রতি বৃহস্পতিবার বসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিশিষ্টজনরা জানান, হাট বসার শুরু হতেই জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক মাস্টার হাটের দায়িত্বে ছিলেন। তাদের প্রশ্ন ইজারার টাকা আগে কোথায় যেত?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, এখানে হাট বসিয়ে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করি। আর আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশসহ দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইজারার টাকা ব্যয় করা হতো। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালে হাটের নিয়ন্ত্রণ নেয় তাতী লীগের সভাপতি খগেন্দ্র দেবনাথ ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এসএম আলমগীর হোসেন। তারাই ভাগবাটোয়ারা করে নেয় হাটের ইজারার টাকা।
গত সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকি হেরে গেলে গরুর হাটটির নিয়ন্ত্রণ নেয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসন জানায়, খাস কালেকশন শুরু করায় প্রভাবশালী মহলটি হাটে পশু পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করাসহ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, প্রতি মাসে গড়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা খাস কালেকশন হচ্ছে। বর্তমানে আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে। আগামী বাংলা সনের জন্য ইজারা কার্যক্রম নেয় হয়েছে।