বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাদা দলের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দনের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটা জিনিসের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, এটা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের। কিন্তু আমরা দেখি দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কিভাবে বক্তব্য দিয়ে দেশের জনগণ ও মেহনতি মানুষকে তিরস্কার করা হচ্ছে, তাদের সাথে তামাশা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয়, এই জায়গাগুলোতে একটু ভাবা দরকার যে, এই সব দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আমরা যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি কি না। সামনে রমজান মাস। রমজানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হল খেজুর। মানুষ যত কষ্টেই থাকুক না কেন, রমজানে এই খেজুরটা গ্রহণ করতেই হয়। এটা ধর্মীয় বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এটা একটা সুন্নত। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বলা হয়েছে যে, খেজুরের পরিবর্তে যেন আমরা বরই খাই। দায়িত্বশীলরা ঠিকই সৌদি থেকে আসা খেজুর খাবে উল্লেখ করে লুৎফর রহমান বলেন, যারা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে খেজুর খেতে না করে তাদের খেজুর কিন্তু বাংলাদেশের নিউমার্কেট থেকে কেনা হয় না। তাদের খেজুর আসে সরাসরি সৌদি আরব থেকে। এমনও হতে পারে যে, গাছ থেকে পেড়ে সরাসরি বাংলাদেশে তাদের এসি রুমগুলোতে নিয়ে আসা হয়। আমরা সেই চাটুকারদের কথামতো যদি কোনো কিছুর ব্যবহার কমাতে চাই, তাহলে তা কতটুকু পরিমাণে কমাব? চালের দাম যদি বেড়ে যায়, তাহলে না হয় আলু খাবো, কিন্তু আলুর দামও যখন বেড়ে যায় তখন আলুর পরিবর্তে কী খাবো? সেটিও সরকারকে ভাবা উচিত।
জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সাথে সিন্ডিকেট জড়িত থাকার দাবি করে তিনি বলেন, যারা জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এবং যাদের কারণে দাম বাড়ে তারা একটি বড় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছে বড় বড় ব্যবসায়ী। সেই ব্যবসায়ীরাই সংসদে বক্তৃতা দেয়, যাদের বেগম পাড়ায় বাড়ি আছে। এসি রুমে বসে কথাবার্তা বলায় তাদের ট্যাক্স দিতে হয় না। কিন্তু এই প্রভাবটা পড়ে আমরা যারা ট্যাক্স দেই, তাদের ওপর। সুতরাং সরকারকে বুঝতে হবে যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমাতে হলে মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে হলে এই শ্রেণীভেদ ভেঙে দিতে হবে। সরকারের তো সেই সাহস নেই। কারণ সিন্ডিকেটই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার পিজে হার্ট ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভোক্তা পর্যায়ে মোট ১৩ বার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। পাইকারি পর্যায়ে মোট ১২ বার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার জন্য আগে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের স্ট্রেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সেই ক্ষমতাকে কেড়ে নিয়ে সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন, শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ ছিল। সেই শ্রীলঙ্কা সবকিছুর সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের মূল্যস্ফীতির পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে একটু খারাপ অবস্থায় আছে। সেখানেও যদি আমরা দেখি, পাকিস্তান গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে যখন গত বছর ১১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার বলেছিল যে, ভারতের থেকে আমরা ভালো আছি। আজকে ভারত যখন ৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, সেখানে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৯.৬৭ থেকে ৯.৮৬ এর মধ্যে ওঠানামা করছে, যা খুবই দুঃখজনক। আমরা এটা থেকে উত্তরণ চাই।
মানববন্ধনে সাদা দল বাণিজ্য অনুষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: শহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ তানভীর রহমান বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন অনুষদ এবং বিভাগের বিএনপিপন্থী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাবি সাদা দলের মানববন্ধন
বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার...



