ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের রমজানের ‘প্রডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক সেমিনারে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে আইন বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়।
গতকাল বুধবার জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান রাসেল, রেজোওয়ান, সাফওয়ান ও তূর্য, শামীম শাহিদী। বাকি একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে শাহিনুর রহমান রাসেল গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাবি মেডিক্যালে ভর্তি আছেন।
জানা যায়, হামলায় নেতৃত্ব দেন শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: তাওহীদুল ইসলাম ওরফে সুজন। সুজন স্থানীয়ভাবে ‘টোকাই নেতা’ বলে পরিচিত। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে হামলা পরিচালনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার হামলার সঙ্গীদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে গতকাল জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ার জামে মসজিদে ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ নামে একটি সেমিনার আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু টাওয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক এর অনুমতি না দেয়ায় শিক্ষার্থীরা মসজিদ থেকে বের হয়ে আইন অনুষদের দিকে যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সামনে তাদের ওপর তাওহীদুল ওরফে সুজনের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা লাঠি, বাঁশ ও পাইপ দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে শিক্ষার্থীদের মুখ, নাক, পিঠসহ দেহের বিভিন্ন অংশে জখম করা হয়।
হামলার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর লাথি, কিল-ঘুষি মারছে, কেউবা আবার বাঁশ দিয়ে পেটাচ্ছে।
জানা যায়, হামলার নেতৃত্বে থাকা শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনকে ডেকে নেন কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তখন নামাজে ছিলাম। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুজনকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমানও কল রিসিভ করেননি।
এ দিকে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন করেছেন আইন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম শহীদী বলেন, আমার তাবলিগের বন্ধু ও বড় ভাইয়েরা রোজার আমল ও ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করতে বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের মসজিদে আসি। আমরা আগেই এটা প্রচার করেছি যে আমরা রোজার ফজিলত, মাসলা মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু হঠাৎ অপরিচিত কয়েকজন মসজিদে এসে আমাদের বের হতে বলে। তাছাড়া টাওয়ারের কর্মচারীরাও আমাদের চলে যেতে বললে আমরা বের হই।
তিনি বলেন, এসময় আমরা গেটের কাছাকাছি আসতেই ৩০-৪০ জন আমাদের ওপর হামলা করে। পরে আমরা জানতে পারি তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিল। তাবলিগের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করবে আমরা ভাবতে পারিনি। আমরা আমাদের নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হাতে মার খেলাম, রক্তাক্ত হলাম। শিক্ষার্থীরা বলেন, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ক্যাম্পাসে আমরা ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতে পারি না। বহিরাগত দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করানো হয়। ছাত্রলীগের শত্রুতা কি কেবল ইসলাম ধর্মের সাথে? মুসলমানদের সাথে? তা নাহলে ধর্মীয় একটা বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ কেন আমরা পাবো না? আমরা এ জঘন্য ও ঘৃণ্য হামলার বিচার দাবি করছি। যদি বহিরাগত দিয়ে এমন সন্ত্রাসী হামলার বিচার না করা হয় তাহলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।



