ভারত মহাসাগর থেকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ’র নবীন নাবিক আশিকুর রহমানের পরিবারে চলছে চরম উৎকণ্ঠা। তার মায়ের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে।

দোয়া-দরুদ পড়েই সময় কাটছে তিন সন্তানের মা নাসরিন আক্তারের। তার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে দুই ছেলেই জাহাজের নাবিক। আশিকুর রহমান তার ছোট ছেলে। বড় ছেলেও দুই মাস আগে চলে গেছে জাহাজে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে আগেই। স্বামী-স্ত্রী দুজন থাকেন বাসায়।

আশিকুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ আখতারের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ান পাড়ায়। তবে চাকরির সুবাদে তারা চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে থাকেন। মোহাম্মদ আকতার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামে মেডিক্যাল সেক্টরে চাকরি করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উৎকণ্ঠিত। তবে ইতোমধ্যে জাহাজের মালিকপক্ষ আমাদের ডেকে নিয়ে আশ্বস্ত করেছে। বলেছে, ২০০৯ সালে তাদের আরেকটি জাহাজ ‘এমভি জাহান মণি’ সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। সেই পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাবিকদেরকে কীভাবে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আশিকুর রহমান ক্রু হিসেবে চাকরি নেয়। সে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি থেকে পাশ করে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স সম্পন্ন করে। এ যাত্রায় নয় মাসের সফরের উদ্দেশে বের হয়েছিল তারা। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, কয়েক মাস যেতে না যেতেই সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে গেলো কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন জাহাজটি।

নাবিক আশিকুর রহমানের চাচা পল্লী চিকিৎসক খালেদ দেওয়ান নয়া দিগন্তকে জানান, ভাতিজা আশিকুর রহমান এলাকায় আসিফ নামে পরিচিত। তারা গ্রামে এলে সবার সাথে মিশত। সে অবিবাহিত। তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল।

বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় কুমার বড়ুয়া বলেন, চাকরির সুবাদে আশিকুর রহমানের বাবা-মা চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে বসবাস করেন। নাবিকদের উদ্ধারের জন্য সরকারি-বেসরকারি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানি।

উল্লেখ্য, কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ সাউথ আফ্রিকার মুজাম্বিক থেকে আরব আমিরাতে যাবার পথে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। তারা জাহাজটিকে জিম্মি করে সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যায়৷ জাহাজে ২৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছে।