যশোরের চৌগাছা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের সীমানা পিলার নেই। ফলে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ করলেও দখল মুক্ত হয়নি নদের শত শত একর জমি। সীমানা পিলার না থাকায় খননকৃত কাদামাটি ফেলা হয়েছে নদের ভেতরেই। এতে নদের প্লাবনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ব্রিজঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গেলে এলাকাবাসী জানান, নদের জমির সীমানা পিলার না থাকায় কপোতাক্ষ খননে নানা অনিয়ম হয়েছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের আওতায় আমিন অ্যান্ড কোং, আবুল কালাম আজাদ ও নুর হোসেনসহ ১১ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে যশোরের চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে ঝিকরগাছা উপজেলা ও মণিরামপুর উপজেলার চাকলা পর্যন্ত মোট ৭৯ কিলোমিটার নদ পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে কপোতাক্ষ নদ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। নদে পানি বেশি থাকায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের জুন মাসে। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কপোতাক্ষ খননে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা নিয়ে নদের দুই পাশের বাজার সংলগ্ন অসংখ্য মালিকানাধীন নিচু জমি ভরাট করে। এ কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া নদের মানচিত্র অনুযায়ী দুই ধারের সীমানায় কোন পিলার পোতা হয়নি। দায়সারাভাবে নদের মাঝখান বরাবর সরু নালার মতো খাল খনন করা হয়েছে শুধু।
নদ খনন করে সরু খাল কাটায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নদের জমি দখল করে বসতবাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করে চলছেন বলে কপোতাক্ষ পাড়ের মানুষের অভিযোগ। চৌগাছা এলাকায় নদের জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা রেখেই নদ খনন করা হয়েছে।
নদের জমিতে সীমানা পিলার না থাকার ফলে এই খনন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে নদের তলদেশের কাদা অক্সিমিটারের মাধ্যমে তুলে তা পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়। যা অল্প বৃষ্টিতেই স্তূপিকৃত কাদামাটি পুনরায় নদের ভেতরেই পড়ছে। যে পরিমাপে খনন হওয়ার কথা তা আদৌ হয়নি। এ ছাড়া নদের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা রেখেই খনন কাজ চলিয়ে যাওয়ায় নদের দখলকৃত এলাকা দখলমুক্ত হয়নি। অথচ, ব্যাপক প্রচার ছিল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদের জমি পুনরুদ্ধার করে খনন কাজ স¤পন্ন হবে। এলাকাবাসী জানান, নদ খনন কাজ চলা কালিন পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নদের জমি যারা দখলে রেখেছেন তারা এলাকার প্রভাবশালী ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি দলের সাথে স¤পৃক্ত। ওই সব ব্যক্তি নানাভাবে দেন দরবার করে তাদের স্থাপনা টিকিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি, নদের নিজস্ব জমির সীমানায় কোন পিলার না পোতায় নদ দখল মুক্ত হচ্ছে না। সে কারণে নদ এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। নদ খননের আগে এর যে প্রশস্থতা ছিল, খননের পরে তা আরো সরু হয়ে গেছে। শুধু তাই-ই নয়, নদ হারিয়েছে তার নাব্যতা।
নদ ঠিকাদার আব্দুল মান্নান মান্না বলেন, কপোতাক্ষ খননে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সীমানা বরারব খনন করা হয়েছে। তবে মালিকানার জমি ও পুকুর ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, খননের শুরুতে কয়েকটি পুকুর ভরাট করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, নদ খননের কাজ চলছে। ফলে সীমানা পিলার দিলে সেটা মাটিতে ঢেকে যাবে। খনন শেষ হলে সীমানা ঠিক করে পিলার দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সীমানা পিলার দেয়া ও নদের জমি দখল মুক্ত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের।
সীমানা পিলার নেই
চৌগাছায় দখল মুক্ত হচ্ছে না কপোতাক্ষ
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের সীমানা পিলার নেই। ফলে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ করলেও দখল মুক্ত হয়নি নদের শত শত একর জমি।...



