জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করে খুন করার অভিযোগে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। একই দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি ও বিকেলে একই জায়গায় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা পৃথক মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে এ ঘটনাকে টেকনিক্যাল মার্ডার আখ্যা দিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সদস্য রিফাত রাশিদ বলেন, ফাইরুজ আমার বড় বোনের মতো। ওনাকে আমি বহু আগে থেকেই চিনি, দীপ্ত প্রতিবাদী একজন মানুষ। তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। এটা একটা টেকনিক্যাল মার্ডার। ফাইরুজ সুইসাইট পোস্টে স্পষ্ট করে বলে গেছেন, সহপাঠী আম্মানের কাছে দিনের পর দিন তিনি হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়ে প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে ছুটে গেছেন। সেই প্রক্টরও আম্মানের দলে যোগ দেয়। তিনি কোনো বিচার পাননি, তার সাথে দিনের পর দিন পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে। শত শত ফাইরুজকে আজ এভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার মাধ্যমে এসবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি অত্যাচারিতদের পক্ষে অত্যাচারীর বিচার চেয়ে আত্মত্যাগ করেছেন। আমরা তার এ ত্যাগকে বৃথা যেতে দেবো না।
ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা বলেন, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী মহিলা, স্পিকার মহিলা সে দেশে মহিলারাই নিপীড়িত হচ্ছে। ফাইরুজ অবন্তিকা এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, শেষ পর্যন্ত তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আজকে আমাদের একটাই দাবি, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টররা আজ রাঘব বোয়ালে পরিণত হয়েছে।
তারা বলেন, রক্ষক এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীরা অত্যাচারিত হয়ে যখন প্রক্টরের কাছে অভিযোগ নিয়ে যায়, বিচার চায়, তখন তারা দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বহিষ্কার করে দেয়ার হুমকি দেয়, গালাগাল করে। কিংবা তাদেরকে চুপ থাকতে বলা হয়। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। ফাইরুজ অবন্তিকা হত্যার সাথে জড়িত দ্বীন ও আম্মানকে দৃষ্টান্তমূলত শাস্তি দিতে হবে। যেন এমন কাজ করতে আর কেউ দুঃসাহস না করে।
প্রসঙ্গত, ফাইরুজ অবন্তিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে গলায় ফাঁস দেয়ার আগে ফাইরুজ নিজে দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্ররোচনাকারীদেরকে অভিযুক্ত করে যান। আত্মহুতির আগে ফেসবুক পোস্টে যাদেরকে অভিযুক্ত করে যান তারা হলেন- জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এবং আইন বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান।