যারা ভ্রমণে বের হতেন তারা আজ রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় পর্যটন স্পটগুলোতে নেই। রমজানের দু’দিন আগেও যেখানে লাখো পর্যটকের আনাগোনায় ভরপুর ছিল সেই চিরচেনা কক্সবাজার এখন ফাঁকা। পর্যটক কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে যাদের আয়-রোজগার হয় তারাও রমজান মাস আসার আগ থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। যাতে রমজানে তাদের কষ্ট না হয়। তারা জানেন রমজানে তাদের ব্যবসা হবে না। রোজার প্রথম দিন থেকে সাত শতাধিক খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। এতে গুটিকয়েক পর্যটকের সাথে স্থানীয়রাও পড়েছেন বিপাকে। খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় রমজানের খাবার নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে রেস্তোরাঁ আছে সাত শতাধিক। এর বাইরে সৈকত এলাকায় ভাজা মাছসহ খাবার বিক্রির ভ্যানগাড়ির দোকান আছে প্রায় ৩০০টি। রোজায় পর্যটক না থাকায় সব ক’টি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সৈকত ভ্রমণে আসেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী দীপক সাহা (৪৭)। গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি শহরের সুগন্ধা সৈকত এলাকায় খাবারের সন্ধান করছিলেন। কিন্তু কোনো রেস্তোরাঁ খোলা পাননি। দীপক সাহা বলেন, নির্জন পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ্য হলেও খাবার নিয়ে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কলাতলীর যে হোটেলে তারা উঠেছেন, সেখানকার রেস্তোরাঁও বন্ধ। আশপাশের কোথাও রেস্তোরাঁ খোলা নেই। ফলে শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে। কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারের রোজাতেও সব রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেগুলোর কর্মচারীদের এক মাসের বেতন-বোনাস অগ্রিম দিয়ে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পাঁচ থেকে সাতটি হোটেল খোলা রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন থেকে খোলা হবে শহরের সব রেস্তোরাঁ। এ দিকে পবিত্র মাহে রমজানের কারণে একেবারে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। এমন অবস্থায় পর্যটক টানতে হোটেল-মোটেল জোন গেস্ট হাউজ-রিসোর্টগুলোয় কক্ষ ভাড়ার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে এক হাজার টাকার একটি করে ভাড়া পড়ছে ৪০০ টাকা। হোটেলগুলোয় দৈনিক ধারণ ক্ষমতা প্রায় এক লাখ ৮৬ হাজার জন। পর্যটক না থাকলেও পাঁচ শতাধিক হোটেল-গেস্ট হাউজ বন্ধ করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সব ক’টি হোটেল রেস্তোরাঁয় সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছে। এগুলোর ৬০ শতাংশ কর্মচারীকে ঈদের অগ্রিম বেতন-বোনাস দিয়ে বাধ্যতামূলক এক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এখন হোটেল গেস্ট হাউজগুলোয় চার থেকে পাঁচ হাজার পর্যটক আছেন। হুমায়ুন কবির নামের এক কর্মচারী জানান, রমজানে পর্যটক না থাকায় আমাদের অর্থনৈতিকভাবে একটু কষ্ট হলেও যথাযথভাবে রমজান মাসে ইবাদত বন্দেগি করার একটু সুযোগ পায়। অন্যান্য সময়ে হোটেল-মোটেল জোনে তিল ধারণের টাই হতো না। পর্যটকদের ভিড়ে ও দায়িত্ব পালনের কারণে ঠিকমতো নামাজ কালাম হতো না আমাদের। এখন পর্যটক নেই। রোজা নামাজ যথাযথভাবে পালন করতে পারছি। মালিক পক্ষ আমাদের এক মাসের বেতন-বোনাস দিয়ে ঈদের এক মাসের অগ্রিম ছুটি দিয়েছেন। এতে আমরা খুব খুশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরে বসে রোজা পালন ও ইবাদত-বন্দেগি করার সুযোগ পেয়েছি।
কক্সবাজার ফাঁকা
কর্মচারীদের অগ্রিম বেতন-বোনাস দিয়ে বাধ্যতামূলক ছুটি
যারা ভ্রমণে বের হতেন তারা আজ রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় পর্যটন স্পটগুলোতে নেই। রমজানের দু’দিন আগেও যেখানে লাখো পর্যটকের আনাগোনায় ভরপুর ছিল সেই চিরচেনা কক্সবাজার এখন...



