১৯৯১ সালের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়ে বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনটিকে স্মরণে রাখতে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় যৌথ বিবৃতি দেন ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এবি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান। বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, আপসহীন দেশনেত্রী, মাদার অব ডেমোক্র্যাসি
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের আজকের এই দিনে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। মূলত মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর যে ঘৃণ্য স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর জনগণের অধিকার নিয়ে হঠকারি আচরণ করে যাচ্ছিল সবার চোখে তারা হয়ে গিয়েছিল জাতীয় বেঈমান। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আস্থা রেখেছিল তাদের প্রিয় নেত্রীর প্রতি। আমরা এ কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, গণতন্ত্রের মাতা আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার প্রিয় জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে গিয়েই একটা জীবন শেষ করে দিচ্ছেন স্বৈরচারবিরোধী সংগ্রামের পেছনে।
ইউট্যাবের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া চারবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ গ্রহণ করেন। বিরোধী দলের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতিশাসিত থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। সংসদীয় সরকারব্যবস্থার অধীনে খালেদা জিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঘষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়যুক্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার এবং সর্বশেষ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীই নন তিনি বিএনপির মতো জনপ্রিয় ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ দেশের রাজনীতির সাথে জড়িত। খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যায়ের সাথে কখনো আপস করেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষা এবং বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং এ দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে। এ জন্যই তাকে কানাডার মানবাধিকার সংগঠন 'মাদার অব ডেমোক্র্যাসি' খেতাব দিয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে তিনি দেশের নাজুক অর্থনীতিকে কাঠামোগত নানা পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে চাঙ্গা করেছেন। অর্থনীতির উদারীকরণ ছাড়াও খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা বিস্তারে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়। বিশেষ করে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি দেয়ার যুগান্তকারী প্রকল্প তিনি সূচনা করেন। যার অবদান প্রশ্নাতীত।
ইউট্যাবের নেতৃদ্বয় বলেন, অথচ জাতির দুর্ভাগ্য এই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন দেশপ্রেমিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আজ কারাগারে বন্দিদশায় থাকতে হচ্ছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। পরিবারের পক্ষে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বারবার আবেদন করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা আমলে নিচ্ছে না; যা খুবই দুঃখজনক। তবে আমরা এখনো বিশ্বাস করি খালেদা জিয়ার মতো মহান রাজনীতিবিদের সামগ্রিক অবদান এবং তার বার্ধক্যের এ কঠিন সময়ের কথা বিবেচনা করে সরকার রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সহানুভুতিশীল আচরণ প্রদর্শন করবে এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পদক্ষেপ নেবে।
দেশ ও নারীর উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান প্রশ্নাতীত : ইউট্যাব
১৯৯১ সালের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়ে বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনটিকে স্মরণে রাখতে বিবৃতি...



