যশোরের চৌগাছায় সুদিন ফিরছে গম চাষিদের। ফলন ও দামে বেশ সন্তুষ্ট তারা। এ উপজেলায় এক সময়ে বিপুল পরিমাণে গম চাষ হতো। ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ এবং ইরি ধানের দাপটে গমের আবাদ কিছুটা কমে যায়। ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন গমচাষিরা। মুখ ফিরিয়ে নেন তারা গম চাষ থেকে। প্রায় এক দশক পর তারা আবার গম চাষ শুরু করেছেন। জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় দ্বিগুণ জমিতে গম চাষ করেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা অর্থকরী ফসল হিসেবে গম চাষ করছেন। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন এ উপজেলার কৃষকরা। হুইট ব্লাস্ট ভাইরাস একেবারে নির্মূল না হলেও চলতি মৌসুমে তার কোনো প্রভাব পড়েনি গম ক্ষেতে। তিনি জানান, গত বছর লাভের মুখ দেখা দেয়ায় ২০২৩-২৪ মৌসুমে এ উপজেলায় তিন শো ২০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০০ হেক্টর বেশি। চলতি মৌসুমে অধিকাংশ কৃষকই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত বারি-৩০, ৩২ ও ৩৩ গম চাষ করেন। ফলে এক দিকে যেমন বেড়েছে গমের চাষ, অন্য দিকে অধিক ফলন হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বলা চলে গমের সুদিন ফিরেছে এ উপজেলায়। ফলন ও দামে খুশি উপজেলার গম চাষিরা।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি জাকির হোসেন বলেন, তিনি তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করে ৫৫ মণ গম পেয়েছেন। রোগ বালাই কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দরও ভালো। একই গ্রামের গম চাষি নুরুজ্জামান, হোসেন আলী, উমেদ আলী বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর ফলন খুব ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, ২০১৭-১৮ সালের দিকে গমের আবাদ অনেকটাই শূন্যের কোটায় চলে যায়। সে পরিস্থিতি থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ব্লাস্ট একেবারে নেই বললেই চলে। উপজেলার আবহাওয়া গমচাষের জন্য উপযোগী। আগামীতে গম চাষ আরো বাড়বে বলে আশা করছি।