বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীর শাখা কচা নদীর হারতা বাজার এলাকায় খুবই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বিকল্প সেতু নির্মাণ করার পরেই তা ভেঙে পড়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন শত শত ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প ট্রলারে যাতায়াত করে আসছে।
বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এসইউপিআরবি প্রকল্পের অধীনে এক কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার ২৯ টাকা ব্যায়ে সন্ধ্যা নদীর শাখা কচা নদীর হারতা বাজার এলাকায় উজিরপুর উপজেলার হারতা-বিশারকান্দি জিসি সড়কের ১০৭ মিটার চেইনেজে ৯৬.০৬ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল-২ আসনের সরকার দলীয় সাবেক সাংসদ শাহ আলম তালুকদার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিকল্প সেতুর অবস্থা খুবই নাজুক, পারাপারের জন্য সেতুতে মানুষ উঠলেই গোটা সেতু দুলতে থাকে। মানুষ ট্রলার দিয়ে নদি পার হচ্ছে। এ সময় স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার নামমাত্র সেতু করে মরণফাঁদ তৈরি করেছেন। সংস্কারের জন্য বার বার অনুরোধ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
রাজাপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুমন হালদার বলেন, উজিরপুরের হারতা, সাতলা, রাজাপুর বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কয়েক হাজার লোক প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করে থাকে। বিকল্প সেতুর মাঝখানে ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী স্মৃতি রানী জানায়, প্রাণভয়ে বিকল্প সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করতে হয়েছে। অতি দ্রুত বিকল্প সেতুর সংস্কারের দাবি জানাই। হারতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি নিজে অনেকবার ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছি; কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি।
অভিযোগের ব্যাপারে মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের মালিক আমির হোসেনের কাছে ফোন দিলে তিনি তা ধরেননি।প্রকল্প তদারকি কাজে নিয়োজিত প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈকত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেতুর সামান্য ত্রুটি রয়েছে। শিগগিরই তা সমাধান করা হবে।
এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। দ্রুত সময়ে সমাধান না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।