কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রাতের আঁধারে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা দরিদ্র এক প্রান্তিক কৃষকের ২৫ শতাংশ জমির প্রায় সহস্রাধিক কুমড়া গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই কৃষক পরিবার।

শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে কুমড়া ক্ষেত পরিচর্যা করতে গিয়ে দেখতে পান তার পুরো ক্ষেতের কুমড়া গাছ কেটে সাবাড় করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাতে উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষকের নাম মিজানুর রহমান নবাউল্লাহ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবাউল্লাহ ২৫ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় এক হাজার কুমড়া গাছের চারা রোপণ করেন। ওইসব কুমড়া গাছে সবেমাত্র ফুল আসার পাশাপাশি কিছু কিছু গাছে কুমড়া বড় হতে শুরু করেছে। তাই কৃষক নবাউল্লাহ কুমড়া বিক্রির প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। এ সময় খেয়াল করে দেখেন তার পুরো ক্ষেতের কুমড়া গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি জানাজানি হলে অনেকেই ঘটনাস্থলে এসে কুমড়া ক্ষেতের অবস্থা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী মোজাম্মেল হক নীরব জানান, কৃষক মিজানুর রহমান নবাউল্লাহ একজন সহজ-সরল মানুষ। তিনি কারো ক্ষতি করেননি। তার ক্ষেতের সব কুমড়া গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।

এ সময় আরেক কুমড়া চাষি কৃষক মো: রফিক জানান, সবজি চাষ করেই নবাউল্লহ বাজারে পাইকারি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার এই ক্ষতি অপূরণীয়।

ক্ষতিগ্রস্ত নবাউল্লাহ জানান, ‘আমার কষ্টের সব কুমড়া গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। সবেমাত্র কুমড়ার আকার বড় হচ্ছিল। গাছের কুমড়া আর বিক্রি করতে পারলাম না। আমার সর্বনাশ হয়ে গেলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি’। তবে ওই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের কুমড়া ক্ষেতের বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় লোকজনের।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম শাহজাহান কবির এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক নবাউল্লাহকে সুবিচারের জন্য হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।