ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (১৪ এপ্রিল) ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন মহাসড়কের শিবালয় থানাধীন উথুলী সংযোগ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশে ঘাট দুটিতে ভিড় জামায়। এই সুযোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফি, নীলাচল, পদ্মাপ্লাসসহ বিভিন্ন ব্যানারের বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে।

রোববার বিকেলে উথুলী সংযোগ মোড়ে প্রকাশ্যে এমনকি হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে যাত্রীসাধারণ অভিযোগ জানান।

পাবনা জেলার সুজানগর এলাকা থেকে আসা পোশাককর্মী আবুকাওসার জোয়ারদার জানান, আজ দুপুরে জনপ্রতি ২৫৫ টাকা ভাড়া দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে আরিচা ঘাটে আসি। নবী নগরের ভাড়া বাবদ আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে পাঁচ'শ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা আদায় করে সেলফি পরিবহন।

একই গন্তব্যের যাত্রী রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকার তাবাসসুম বিনতে আরিফা জানান, আমি সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। চাকরির সুবাদে প্রতিনিয়তই আমাকে এই রোড দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আরিচা থেকে নবী নগরের ভাড়া এক'শ থেকে এক'শ ২০ টাকা হলেও আজকে তারা জনপ্রতি দুই'শ টাকা করে আদায় করছে। দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কোনো ধরনের প্রতিবাদ না করে দাবিকৃত টাকা দিয়ে গাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছে ঘরফেরত ঈদ যাত্রীরা।

আরিচা স্পিডবোর্ড মালিক সমিতির সুপারভাইজার মো: রুস্তম আলী জানান, মালিক সমিতির বেঁধে দেয়া জনপ্রতি ২৫৫ টাকা হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আরিচা ও কাজির হাট রুটে এগারোটি করে মোট বাইশটি স্পিডবোর্ড দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ঈদের তৃতীয় দিনে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরিচা-কাজিরহাট নৌ-রুটে ১৫ লঞ্চ যাত্রী পারাপার করছে।

এ বিষয়ে এটিএসআই মেহেদী হাসান জানান, শুনেছি যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে বাসভাড়া সামান্য বেশি নিচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সাথে জড়িতদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। সেই লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কেএম মেরাজের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।