রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা অজপাড়া গাঁয়ের দরিদ্র আলেফ শেখের মেয়ে মেধাবী রাফেজা ডাক্তার হতে চায়। পিএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস, এবার এসএসসিতেও গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে রাফেজার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আকাক্সক্ষা আরো বেড়েছে। কিন্তু তার দরিদ্র বাবা-মায়ের মনে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তার ঘাম ঝরছে। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে কোথায় পাবে ভালো কলেজে ভর্তির টাকা। কিভাবে চালাবেন ছয় সদস্যের পরিবারের সংসার।
আলেপ শেখের সহায় সম্বল বলতে আছে দুই শতাংশ জমির বসতভিটায় পাটকাঠির বেড়ার একটি ছাপড়া ঘর। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে গাদাগাদি করে থাকেন ওই ছাপড়া ঘরে। বাইসাইকেলে করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুরগি কেনা ও বেচা করেন তিনি। দিন এনে দিন খাওয়া এমন একটি পরিবারের সামর্থ্য ছিল না মেয়েকে প্রাইভেট পড়ানো। এমনি শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে রাফেজা এবার বরাট চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। তার এ সাফল্যে শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
রাফেজা নিজের সীমাহীন চেষ্টা আর স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করে বলে, ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ভালো ডাক্তার হয়ে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা দেবো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমি লেখাপড়া করে চলেছি। কিন্তু পিতার দরিদ্র্যতাই এখন আমার বড় বাধা।
এমন কেউ কী আছেন রাফেজার পাশে দাঁড়াবেন? বরাট চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার আমার বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। তাদের মধ্যে রাফেজাই সবচেয়ে বেশি মেধাবী ও দরিদ্র। সহযোগিতা পেলে সে অবশ্যই অনেক বড় ডাক্তার হতে পারবে। আমি তার সহায়তায় দেশী-বিদেশী সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান করছি।