ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে ভারতের মেঘালয়ে অবিরাম ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে সীমান্তবর্তী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। সারী, বড় নয়াগং, রাংপানি, করিচ ও কাপনা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন।
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, ফুলবাড়ী, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর, খারুবিল, ডুলটিরপাড়, লক্ষ্মীপুর, আমবাড়ি, ঝিঙ্গাবাড়ি, কাঠালবাড়ি, নলজুরী হাওর ও রাংপানিসহ আরো অনেক এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছেন। এসব পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছেন সাধারণ মানুষসহ উপজেলা প্রশাসন। তবে বর্তমানে হাওড় এলাকাতে ফসলের তেমন ক্ষতি না হলেও মানুষের বসতঘরের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জৈন্তাপুর শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান পারভেজ রিয়াদ বলেন, সারী নদীর পানি বর্তমানে বিপদ সীমার ১৩.৫৩ সেমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বৃষ্টিপাত হলে আরো বাড়বে।
সিলেটের আবহাওয়াবিদ শাহ মোহা. সজিব হোসাইন বলেন, বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে, বর্তমানে আবহাওয়া যে অবস্থায় আছে আগামী দিনগুলোতেও প্রায় একি অবস্থায় থাকবে ও বৃষ্টিপাত হবে।
পরিবেশবিদ আব্দুল হাই আল হাদি বলেন, এটি প্রাকৃতিক কোনো বন্যা নয়, এটি মানবসৃষ্ট বন্যা, কারণ ভূমিখেকোরা পাহাড় কেটে নদনদী, খাল, বিল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আজ তা বন্যায় রূপান্তরিত হয়েছে। নদী তার নাব্যতা যখন ফিরে পাবে তখন আর ঘন ঘন বন্যা হবে না।
এদিকে দুইবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, এবারের বন্যায় জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের গরু ছাগল মারা গেছে, বসতঘর পানির নিচে চলে গেছে। পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার এবং শুকনা খাবার বিতরণ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে শাকিল বুশরা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উপজেলার ৪৮টি বিদ্যালয় ঠিক করে রেখেছি। গত মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত নিজে নৌকা নিয়ে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার এবং শুকনা খাবার বিতরণ করছি। প্রশাসনের এ কার্যক্রম চলবে। এদিকে ভারী বর্ষণের সতর্কতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। যদিও এখনো উপজেলার শিকার খাঁ ও উৎলারপাড় এলাকার বেশ কিছু পাহাড় কাটা হচ্ছে। টিলা ও পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে প্রচারণা চালানোসহ সার্বিক মনিটরিং করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবিরাম ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস থাকায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
উজানের পানিতে বন্দী জৈন্তাপুরের ২ ইউনিয়নের মানুষ
ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে ভারতের মেঘালয়ে অবিরাম ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে সীমান্তবর্তী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।...



