ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসাটি দীর্ঘ ৪০ বছরেও হয়নি কোনো পাকা ভবন! ১৯৮৪ সালে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী মাওলানা সাইদুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে প্রতিষ্ঠা করেন এ মাদরাসাটি। ১৯৮৭ সালে এমপিওভুক্ত হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, মাদরাসার টিনশেড ঘরে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। প্রতি বছরই ঝড়ে মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানেই চলছে শিক্ষাদান। মাদরাসার মিলনায়তনসহ সবগুলো শ্রেণিকক্ষই জরাজীর্ণ। এবারের রেমালের আঘাতে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মাদরাসার টিনের ছাউনি উড়ে গেছে।
মাদরাসার প্রধান মাওলানা মতিউল ইসলাম জানান, প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ৫৩০ জন শিক্ষার্থী আছে। ঘরগুলো জরাজীর্ণ বলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। প্রতি বছর মাদরাসা থেকে জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক রেজাল্ট করে আসছে। ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে পাঠদান। নতুন ভবনের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। শিগগিরই একটি পাকা ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
অষ্টম ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাওয়া ও সালেহা জানায়, প্রচণ্ড সূর্যের তাপে টিনের চালা গরম হয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। বৃষ্টিতে টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় বই-খাতা। আমরা দ্রুত একটি পাকা ভবনের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার মদন মোহন মণ্ডল বলেন, উপজেলার অন্যান্য মাদরাসার তুলনায় বাংলাবাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী অনেক বেশি। রেজাল্টও সন্তোষজনক। আশা করছি, মাদরাসার জন্য শিগগিরই নতুন একটি পাকা ভবন সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে বরাদ্দ আসবে।