বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন অফিসের কাছে অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা না থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০টি কেন্দ্রের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান নিয়ে একধরনের আতঙ্ক রয়েছে।
তারা ওই সব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ওই সব কেন্দ্রের শান্তি রক্ষা ও আতঙ্কমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য একাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।
ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার একশত ৫৭। তার মধ্যে ওটরা, জল্লা, সাতলা ও হারতা অত্যন্ত পল্লির সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে। যেখানের যোগাযোগ অবস্থা অনেকটা পিছিয়ে। ওই সব এলাকার চার্চ অব বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম সাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবপুর নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালবিলা মাধ্যুমব বালিকা বিদ্যালয়, মধ্য কালবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাথারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য হারতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মুন্সীর তাল্লুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলগাববাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর হাজি ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুগাকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিরা হস্তিশুন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
হারতা ইউনিয়নের হারতা গ্রামের নির্মল মণ্ডল বলেন, কালবিলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মধ্য কালবিলা সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়, জামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাথারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য হারতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাগরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র প্রত্যন্ত পল্লিতে। এসব কেন্দ্র দখল করে কারচুপির পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মজিদ সিকদার বলেন, প্রত্যন্ত পল্লীর ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের ভোটারদের আমার প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমকি দিচ্ছেন এবং কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা নিয়ে পেশি শক্তির ভয় দেখাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফিজুর রহমান ইকবাল বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমিও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কোনো তালিকা আমরা পাইনি। ফলে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের কোনো তালিকা প্রণয়ন করা হয়নি। তবে প্রত্যন্ত পল্লী ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার ভোট কেন্দ্রেগুলোতে আমরা নজরদারির মধ্যে রাখার সিদ্বান্ত নিয়েছি। প্রার্থীদের কাছ থেকে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকা উল্লেখ করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন পেয়েছি। খতিয়ে দেখে ঊর্ধতন কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো: তৌহিদুজ্জামান বলেন, একাধিক প্রার্থী অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে চিহ্নিতসহ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিতসহ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



