রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খামারে ও পারিবারিকভাবে প্রায় সারে পাঁচ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা আসন্ন কোরবানির ঈদে এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ অন্য জেলায় সরবরাহ করা যাবে।

গোয়ালন্দ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যান্ত এলাকা ও চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, প্রায় বাড়িতেই একটি দুটি বা কোথায়ও খামার আকারে কোরবানির পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে এসব পশুর লালন পালন অনুযায়ী পশুর উপযুক্ত দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত খামারিরা।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর করনেশন তারা মাতবর পাড়ার আ: লতিফ শেখের ছেলে রিয়াজুল শেখ জানান, বাবার আমল থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষি কাজের পাশাপাশি প্রতি বছর তিনি কোরবানির গরু লালন পালন করে বিক্রি করেন। তার খামারে সব সময় ছোট, মাঝারী ও বড় সাইজের গরু থাকে। প্রতি কোরবানিতে বড়গুলো বিক্রি করে সমপরিমাণ ছোট গরু ক্রয় করেন। এবারের কোরবানিতে তিনি ছয়টি ষাড় গরু বিক্রি করবেন। তিনি দুই বছর আগে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকায় এই ছয়টি ষাঁড় বাছুর ক্রয় করে ছিলেন। পাঁচ মাস ধরে তিনি ছয়টি গরুর পেছনে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। সব মিলে তার ছয়টি গরু মোটাতাজা করতে মোট ছয় লাখ খরচ হয়েছে। তার টার্গেট এবার কোরবানিতে গরুগুলো ১২-১৩ লাখ টাকা বিক্রি হবে।

একইভাবে চর দৌলতদিয়া তমিজউদদীন মৃধার পাড়ার আলামীন শেখ জানান, তার খামারে দুই সাইজের ছয়টি গরু রয়েছে। এবার ঈদে তিনি তিনটি গরু বিক্রি করবেন। তিনটি গরু তিনি দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছিলেন। প্রতি মাসে গরুগুলোর পেছনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা তার খরত হয়। তার টার্গেট এবারে ভারতীয় গরু না এলে তার ওই তিনটি গরু ৯ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হবে।

তমিজউদদীন মৃধা পাড়ার মো: শাজাহান বেপারী জানান, তিনি চার মাস আগে সাত লাখ ৫০ হাজার তিনটি গরু ক্রয় করে লালন পালন করছেন। প্রতিমাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা গরুগুলোর খরচ করেছেন। গরু ব্যাপারীরা বাড়িতে এসে তিনটি গরু ১০ লাখ টাকা দাম করছে। ১১ টাকা হলে তিনি বাড়ি থেকে বিক্রি করবেন।

এভাবে কথা হয় চর দৌলতদিয়া ইছাক মুন্সি পাড়ার খামারি আলাল বিশ্বাস, তমিজউদদীন পাড়ার মৃধা পাড়ার আ: খালেক খাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক ছোট বড় খামারির সাথে কথা হয়।

প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করা ওই গরু গুলোর প্রত্যেকটির ওজন প্রায় ১৪ থেকে ২০ মণ হবে।

অধিকাংশ খামারি নিজের জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, গম, ধানের খড়, ধানের কুড়া, গমের ভূষি, সরিষা ও তিলের খৈলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে গরুগুলো মোটাতাজাকরণ করে চলেছে। এতে গরুর রোগবালাই যেমন কম হয়েছে, তেমনি খরচও অনেকটা সাশ্রয়ী হয়েছে।

নদী ভাঙনের শিকার অধিকাংশ কৃষকই প্রতিবছর কৃষি কাজের পাশাপাশি কোরবানির গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়াই তাদের একমাত্র আশা। ভারতীয় গরু এনে সে আশার গুড়ে বালি না হয়। সরকারের প্রতি তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রত্যেক খামারিই দেশের বাইরে থেকে গরু আমদানি না করার অনুরোধ জানান। এতে তারা ভালো লাভবান হবেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে এবারের কোরবানি ঈদে অত্র উপজেলায় তিন হাজার ৬৫০ পশুর চাহিদা রয়েছে। ইতোমধ্যে চার হাজার ৫২৭টি পশু তালিকা ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আরো পশু তালিকার বাইরে রয়েছে।