- সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে
- খরচ বাড়লেও ৫ বছরে বাড়েনি এক কেজি চালও
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা ৬৫ দিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার ভেতরে সরকারিভাবে চাল সহায়তা দেয়া হয়। কিন্তু চাল সহায়তা পায়নি নিবন্ধিত এখানকার ৪৩১ জন জেলে। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ দিকে, গত ৫ বছরে খরচ অনেক গুণ বাড়লেও ৬৫ দিনের বন্ধের সময় এক কেজি চালের বরাদ্দও বাড়েনি।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার নিষেধাাজ্ঞা চলছে। ৬৫ দিনের বন্ধে মিরসরাই উপজেলার জেলেদের জন্য একশ’ ৮৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ চাল দুই হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারকে দুই দফায় ৮৬ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়া হয়।
২০১৯ সাল থেকে ৮৬ কেজি করে চাল পেয়ে আসছেন তারা। দীর্ঘ ৫ বছরে এক কেজি চাল বরাদ্দও বাড়েনি তাদের। অথচ সংসারে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই। ২০২১ সালে মিরসরাইয়ে মোট নিবন্ধিত জেলে ছিল দুই হাজার ২৬ জন। ওই বছরের শেষের দিকে ছয়শ’ জেলে নিবন্ধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে ৬৯ জন জেলে বাদ পড়েন। পরে মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৫৭ জনে। কিন্তু জেলেসংখ্যা বাড়লেও বরাদ্দ না বাড়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জেলেদের মধ্যে। এ ছাড়া নিবন্ধনের বাইরে আরো কয়েক হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারগুলোও পড়েছে বিপাকে।
মায়ানী ইউনিয়নে জয়নগর জেলে পাড়ার জদু জলদাশ বলেন, বিগত ৫ বছরে ভিজিএফের বরাদ্দ একই রকম রয়েছে। এক কেজি চালও বরাদ্দ বাড়েনি। নিষেধাজ্ঞার সময় বরাদ্দ বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। মিরসরাইয়ে মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছে দুই হাজার ৫৫৭ জন। অথচ ৬৫ দিনের বন্ধে চাল সহায়তা পায় দুই হাজার ১২৬ জন জেলে। সহায়তা না পাওয়া জেলেদের দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ৬৫ দিনের বন্ধে জেলেরা দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা পায়। উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন আমরা বরাদ্দ পাই দুই হাজার ১২৬ জনের। তাই বাকি ৪৩১ জনকে চাল সহায়তা দেয়া সম্ভব হয় না।



