শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার ঘোষিত কারফিউতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবরোধে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রভাব পড়েছে সবধরনের ব্যবসাবাণিজ্য ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ওপর। স্বাভাবিক কাজকর্ম, রুটি রোজগারে ভাটা পড়েছে। অবরোধের প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি শ্রমজীবী মানুষও। একের পর এক অবরোধে কষ্টে কাটছে তাদের দিনকাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে পণ্য আনা-নেয়া করা হয়। এসব পণ্য গাড়ি থেকে মহাসড়কে অবস্থিত বাজারগুলোতে নামিয়ে দেয়ার পর তা ভ্যানে করে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে এসব পণ্য আনা নেয়া বন্ধ রয়েছে। এতে অনেকটা বেকার সময় পার করছেন ভ্যানচালকরা।
গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ মিরসরাই সদরে নিজ নিজ ভ্যানে বসে অলস সময় পার করছেন আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ও বাচ্চু মিয়া। ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের ৯ জন সদস্য নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসে থাকতে হয়, তার পর খালি হাতে বাড়ি ফিরছি। ধারদেনা করে কোনো মতে চলতে হচ্ছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুঝতে পারছি না।’
আরেক ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন ও কারফিউর কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে কোনো গাড়ি আসছে না। গাড়ি চললে এখান নামিয়ে দেয়া পণ্য ভ্যানে করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিই। গাড়ি না চলায় কষ্টের শেষ নেই, এখন পকেটে চা খাওয়ার টাকাও নেই।’
শুধু মিরসরাই সদরের চিত্র নয়; এমন করুণ অবস্থা বারইয়ারহাট, মিঠাছড়া, বড়দারোগাহাট, জোরারগঞ্জসহ সব বাজারের ভ্যানচালকদের। গাড়ি চলাচল করলেই তাদের ভাড়া হয়।
বড়দারোগাহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, বড়দারোগাহাট বাজারে প্রায় অর্ধশত ভ্যানচালক রয়েছে। যারা বাইরে থেকে এখানে আসা বিভিন্ন পণ্য পৌঁছে দেয়; কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চলাচল না করায় তারা ভাড়া পাচ্ছে না। এতে বেকার হয়ে সারা দিন বসে থাকতে হচ্ছে। অথচ আগে একটা ভাড়ার পণ্য পৌঁছে দেয়ার আগে আরেকটা ভাড়ার ডাক পড়ত।
‘এক সপ্তাহ ধরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে রয়েছি’
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার ঘোষিত কারফিউতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবরোধে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রভাব পড়েছে সবধরনের ব্যবসাবাণিজ্য ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার...



