যশোরের চৌগাছায় সরকারি মর্জাদ বাঁওড়ের শত শত একর জমি প্রভাবশালীরা যে যার মতো দখল করে চাষাবাদের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। যেন দেখার কেউ নেই। সরকারি জমি দখল নিয়ে ফসল চাষ করায় গো-চারণ ভূমি নষ্ট হচ্ছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার গরু-মহিষ ও ছাগল পালনকারী সাধারণ জনগণ। এ জমি দখল প্রতিরোধে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হায়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দীনই প্রথমে বাঁওড়ের জমি দখল করে ফসল চাষ করা শুরু করেন। এরপরেই বাঁওড়ের পাশের পাতিবিলা, হায়াতপুর, তেঘরি, জগদিশপুর ও হাজিপুর গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ট্রাক্টর দিয়ে বাঁওড়ের শত শত বিঘা জমি চাষ করতে থাকেন। এ নিয়ে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও রহস্যজনক কারণে ভূমি অফিস কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর থেকেই দখল আর পাল্টা দখলে মেতে উঠেছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। যারা জমি দখল করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, হায়াতপুর গ্রামের জহির উদ্দীন, রাসেল হোসেন, পান্নু মিয়া, হিন্দুপাড়ার শ্রী প্রভাত ও বিজয় কুমার, পাতিবিলা গ্রামের আশারোফ হোসেন, টিটো হোসেন, ফারুখ হোসেন ও রুহুল আমিনসহ তাদের লোকজন।
গতকাল শনিবার সরেজমিন গেলে চোখে পড়ে সরকারি মর্জাদ বাঁওড়ের শত শত একর জমি দখল করে করছে চাষ-আবাদ। এলাকাবাসী জানান, বাঁওড়ের চার পাশে থাকা সবগুলো গ্রামের কয়েক হাজার গরু-মহিষ ও ছাগলের চারণ ভূমি ছিল এই বাঁওড়ের শুকিয়ে যাওয়া জমিতে। এই এলাকার মানুষের গরু ছাগল পালনে বাঁওড়ের চর থেকে অধিকাংশ পশুর খাদ্য চাহিদা পূরণ হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই জানান, প্রশাসনকে জানানো হয়েছে; কিন্তু কেউ আসেনি। প্রশাসন দায়সারাভাবে মাইকিং করেছে জমি দখল না নেয়ার জন্য। কিন্তু এক দিকে মাইকিং চলছে অন্য দিকে বাঁওড়ের জমি দখলদাররা চষে বিভিন্ন আবাদ করছে।
অভিযুক্ত দখলদার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন বলেন, আমি কিছু জমি দখল করেছি কেউ যেন চাষ করতে না পারে। বাঁওড়ের পাশের হিন্দুপাড়ার লোকজন কিছু জমি দখল করে চাষ করেছে বলে তিনি জানান।
হায়াতপুর গ্রামের জহির উদ্দীন বলেন, আমার অনেক আছে আমি কেন বাঁওড়ের জমি দখল নিতে যাবো? আমি এলাকায় একটু মাতুব্বারি করি এতে কেউ আমার উপরে ক্ষুব্ধ হয়ে নাম দিয়ে থাকতে পারে।
চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।