এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো: রুহান আহমেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। অনেক কষ্টে করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি। ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল। আমার এখন আর কিছুই রইল না। এখন কী করুম? কী নিয়ে বাচুম? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। ছেলের শোকে আহাজারি করে কাঁদছিলেন ঢাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলনের সহিংসতায় নিহত রুহানের মা মনিরা বেগম।
রুহান চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯ নম্বর বালিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠু খান বাড়ির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ খানের ছেলে এবং ঢাকা দনিয়া কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী।
গত শুক্রবার কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দিন বর ধরে চলা সংঘাত-সংঘর্ষ ঢাকার শনিরআখড়া নামক এলাকায় জুমার নামাজের পর বেলা ৩টায় পুলিশের গুলিতে নিহত রুহান আহমেদ। রুহান অনেক ভদ্র ও সহজ সরল ছিলেন। আল্লাহর কাছে তার বিচার চাই। কয়েকটি বুলেটে রাস্তায় তার প্রাণ চলে যায়। এ কথা বলছিলেন রুহানের বাবা সুলতান আহমেদ আরো বলেন, আল্লাহর কাছে চাই আমার ছেলের রক্তের বিনিময়ে এ দেশে শান্ত আসুক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো: রুহান ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। তিনি স্কাউটের ভালো সংগঠক ছিলেন, তার বাবার তার ভবিষ্যৎ কথা চিন্তা করে, ঢাকা স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ভালো ফলাফল করে এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ পেয়ে মেধা তালিকায় ঢাকা ধনিয়া কলেজে ভর্তি হয়েছে এবং চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় শেষে দিকে রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন।
আরো জানা যায়, রুহানের বাবা সুলতান আহমেদ খান, মা মনিরা বেগম, তারা দুই ভাই রুহান সবার ছোট। তারা পরিবারসহ ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ২০ জুলাই শনিবার বিকেলে চাঁদপুর জেলার সদরের বালিয়া কমলাপুর নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।



