কোনো কিছুতেই মিয়ানমারের চলমান সঙ্ঘাত থামছে না। আবারো ওপার থেকে আসা মর্টার শেল ও গুলির শব্দে কেঁপে উঠছে কক্সবাজারের টেকনাফ শহর ও আশপাশ এলাকা। ফলে সীমান্ত জনপদ টেকনাফের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি-কোস্টগার্ডের টহল জোরদার রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেলে পৃথকভাবে এবং বুধবার (৩১ জুলাই) ভোর রাতে টেকনাফ সীমান্তে আর্টিলারি ও মর্টার শেলের শব্দ শুনতে পায় স্থানীয়রা। এছাড়া সীমান্তে মিয়ানমারের ভেতর মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ হয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানায়, গত কয়েক দিন ধরে টেকনাফে প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ওপারে যুদ্ধের কারণে টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, কায়ুকখালীপাড়া, জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কুলারপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, সাবরাংয়ের মগপাড়া, আছারবনিয়া, ডেগিল্ল্যা বিল, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায় মর্টার শেল ও বোমার বিকট শব্দে বাড়ি-ঘর কাঁপছে।

টেকনাফের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মৌলভী রহমত উল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমারের চলমান সঙ্ঘাত কিছুতেই থামছে না। এপারে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।’

টেকনাফ শহরের বাসিন্দা সাবেকুন্নাহার বলেন, ‘বুধবার ভোর রাতে মিয়ানমারের গোলার বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। কারণ সীমান্তের পূর্ব দিকে মিয়ানমারের কুমিরহালি, নাইচদং, কোয়াংচিগং, শিলখালী, নাফপুরা গ্রামে গৃহযুদ্ধ চলছে।’

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল বেড়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলমান রয়েছে। ফলে কোনো রোহিঙ্গা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আদনান চৌধুরী বলেন, ওপারে সঙ্ঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারে চলমান সঙ্ঘাতে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।