কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সিএনজিচালক আমির হোসেনের স্ত্রী আন্নি আক্তার কেঁদে কেঁদে বলেন, স্বামীর পরিবর্তে আমি মারা গেলে ভালো হতো। তিন সন্তান নিয়ে এখন আমি অসহায়।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) জুমাবাদ সিএনজিচালক আমির হোসেন বাসায় ফেরার পথে ঢাকার রামপুরায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পর পর তিনটি গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

কর্মক্ষম স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে পরেছেন স্ত্রী আন্নি আক্তার। সন্তানদের নিয়ে এখন মানবতার জীবনযাপন করছেন তিনি। সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন পালনের জন্য প্রধান মন্ত্রীর সহায়তাও চেয়েছেন।

জানা গেছে, তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মৌপাড়া এলাকার মরহুম আলতাফ হোসেনের ছেলে আমির হোসেন। এক যুগ আগে কাজের সন্ধানে স্ত্রী আন্নি আক্তারকে নিয়ে ঢাকা যান আমির হোসেন। ঢাকার রামপুরার পশ্চিম ওলান রোডের চান্দু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে সিএনজি চালাত আমির। সেখানেই আরমান (৮), আরিয়ান (৫) ও আমেনা (১) নামের তিনটি সন্তানের জন্ম হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে দু’পক্ষের সংঘর্ষের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমাবাদ মারা যান আমির হোসেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই এনে তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

নিহত আমির হোসেনের স্ত্রী আন্নি আকতার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কিছুই রইলনা। স্বামী মারা না গিয়ে আমি মারা গেলে ভালো হতো। এখন আমার তিন সন্তানদের ভরণপোষণ কে দেবে। আমি কিভাবে সন্তানদের লালনপালন করব। সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তা চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, হত দরিদ্র আমির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালাত। কোটা আন্দোলনের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আমির হোসেন মারা যান। তার রেখে যাওয়া তিনটি সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী আন্নি আক্তার এখন খুবই অসহায়। ওদের সহযোগীতার জন্য সরকরের কাছে জোড় অনুরোধ জানাই।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত আমির হোসেনের বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। নিহতের ঘটনাস্থল ঢাকায়। ওই স্থানেই পুলিশ ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুম্পা বলেন, নিহত আমির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেছি। তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।