টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু-মাটি লুট করে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষে বিরতি দিয়ে পুনরায় চলে রমরমা এই বালু-মাটির অবৈধ ব্যবসা। স্থানীয়রা বলছেন, এদের দৌরাত্ম্যে নদীভাঙন, পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মতো কেউ নেই।
বছর জুড়েই উপজেলার পাকুটিয়া ও মোকনা ইউনিয়নের অন্তর্গত ধলেশ্বরী ও বংশী নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ৬ চাকার অবৈধ ট্রাক্টর গাড়ি দিয়ে পরিবহনের মাধ্যমে সেটি বিক্রয় করে রাতারাতি অর্থ-বিত্তশালী বনে যাচ্ছেন মাটি খেকো ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, পাকুটিয়া ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশী নদীতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তিনি জানান, বালু-মাটি ড্রেজিং সিন্ডিকেটে জড়িত আছে পাকুটিয়া ইউপি সদস্য মো: রফিকুল, পাকুটিয়া বাজার ব্যবসায়ী মো: শহিদুল, আউটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো: মুক্তার হোসেন, পুখুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো: রবিউল ইসলাম, আবুল কাশেমসহ আরো অনেকেই।
পাকুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম খান মোবাইলফোনে জানান, আমাদের পুখুরিয়া, মানড়া ও বাঘুটিয়া তিনটি ঘাটে এই অবৈধ ড্রেজার চলছে। এখানে প্রশাসনের অভিযানের আগেই সিন্ডিকেটরা জেনে যায়। কয়েক দিন আগেই প্রশাসন লাল নিশান দিয়ে ড্রেজিং নিষিদ্ধ করে গেছে, সেখানে পুনরায় বালু বিক্রি ব্যবসা চলছে।
এ বিষয়ে পাকুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী নজরুল ইসলাম বলেন, একটি সিন্ডিকেট সব সময়ই তৎপর বালু-মাটি উত্তোলন ও বিক্রিতে। আমরা অভিযানে গেলে এরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক বলেন, অবৈধ বালু-মাটি ব্যবসা বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে।