চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের মুখরোচক মিষ্টি ও দই। এসব দই ও মিষ্টি খেয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অনেকটা টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাওয়ার মতো অবস্থা। কারখানায় খালি শরীর ও স্যাঁতসে্যঁতে পরিবেশে বসেই কর্মচারী ও কারিগররা মিষ্টি বানাচ্ছেন। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ছাড়া কোনো কোনো মিষ্টির দোকানে নেই মূল্যতালিকা। তা ছাড়া মিষ্টি ছাড়াই প্যাকেটের ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম। ফলে মিষ্টি কিনে প্রতিনিয়ত ঠকছেন ক্রেতারা। নোংরা পরিবেশে এসব মিষ্টি তৈরি হলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্রেতারা।
সরেজমিন উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান মুহুরী প্রজেক্টে গিয়ে দেখা গেছে, মুহুরী প্রজেক্ট দেখতে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে ভ্রমণপিপাসু শত শত মানুষ। মুহুরী প্রজেক্ট বাজারে ‘রাজিব মিষ্টি মেলা’ নামে একটি মিষ্টির দোকান গড়ে তুলেছেন রাজিব দাশ নামে এক ব্যক্তি। সামনে শোরুমে সুন্দর পরিবেশে মিষ্টি সাজিয়ে রাখলেও মুহুরী প্রজেক্টের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা মিষ্টির কারখানায় গিয়ে দেখা যায় তিনজন কারিগর খালি গায়ে মিষ্টি তৈরি করছেন। কারিগরদের পরনে নেই অ্যাপ্রোন, হাতে নেই হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক ও হেডক্যাপ। কক্ষের চারদিকে ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। কক্ষের পেছনে আর্বজনাপূর্ণ একটি খাল এবং উত্তর পাশে বিভিন্ন ময়লাযুক্ত পতিত জমি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
শুধু মুহুরী প্রজেক্ট নয়, এভাবে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য মিষ্টি কারখানা। এ ছাড়া গরুর দুধ দিয়ে তৈরি কিছু খাবারকে মহিষের দুধ দিয়ে তৈরি বলে বিক্রি করছে, যা ভোক্তার সাথে এক প্রকার প্রতারণার শামিল।
এই বিষয়ে ‘রাজিব মিষ্টি মেলা’র স্বত্বাধিকারী রাজিব দাশ বলেন, দৈনিক ১৫ থেকে ২০ কেজি মিষ্টি বিক্রি হয়। ২৮০ থেকে ৭শ’ টাকা দামের মিষ্টিও রয়েছে এখানে। প্রতি মাসে গড়ে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার মিষ্টি বিকিকিনি হয়। এখানে কোনো প্রকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই। বিএসটিআইয়ের একটি অনুমোদনপত্র ছাড়া অন্য কোনো দফতরের কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।
মিরসরাই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ফাতেমা আক্তার বলেন, সরকারি নির্দেশনার চেয়ে বেশি ওজনের প্যাকেটে বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন জানান, মিরসরাইয়ে বিভিন্ন মিষ্টি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা না করায় শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে দই-মিষ্টি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের মুখরোচক মিষ্টি ও দই। এসব দই ও মিষ্টি খেয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।...



